ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

নওগাঁয় শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ | জুন ২১, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম নওগাঁয় শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

নওগাঁর মান্দায় সহকর্মী এক নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব, উত্যক্ত ও ব্ল্যাকমেইল করার পর প্রকাশ্য দিবালোকে জুতাপেটার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আজ রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জিয়াউল হক জিয়া। তিনি উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিক্ষক গত বুধবার (১৭ জুন) মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

আজকের মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমানে পুলিশে কর্মরত রুহুল আমীন নামে এক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম নামে অপর এক শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বিদ্যালয় থেকে নামার সময় আয়োজকরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু ওই সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ভেতর প্রবেশ করায় আয়োজকদের সন্দেহ হয় যে, ওই পুলিশ সদস্য শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাধা প্রদান করেছেন।

এই সন্দেহের জেরে এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ ওই পুলিশ সদস্যকে অফিস রুমের ভেতর ধাক্কাতে ধাক্কাতে নিয়ে যায় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মান্দা থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ ওয়াহেদ আলি, দক্ষিণ পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব লুৎফর রহমান, আব্দুল মতিন, মাসুদ রানা, ছাইফুল ইসলাম, ফিরোজ ও মেহেদী প্রমুখ। আন্দোলনকারীরা জানান, লম্পট শিক্ষকের চূড়ান্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন

 "জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠান থেকে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো তোয়াক্কা না করায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তাকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।"

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, "ভুক্তভোগী নারী শিক্ষক থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন, যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছে, তাকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!