আগামী ১০ দিনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রোববার (২১ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী সাত দিনের মধ্যে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ডুলাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানির স্তর সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর পানির স্তর আগামী সাত দিনে সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৮ জুন অথবা এর কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পাউবো জানায়, গত সাত দিনেও এসব এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ১০ দিনেও উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে স্থানভেদে সর্বোচ্চ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেও যমুনার পানির স্তর প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। উভয় নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ১০ দিনে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে, তবে তা বিপদসীমার নিচেই থাকতে পারে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা
গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, আর পদ্মার পানির স্তর স্থিতিশীল রয়েছে। গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে এবং পরবর্তী আট দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে পদ্মার পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী আট দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকা
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী সাত দিন সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধিসহ সামগ্রিকভাবে পানির স্তর বাড়তে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর বিভাগের নদীসমূহ
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী সাত দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহ
সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম ও ভুগাই নদীর পানির স্তর কিছুটা কমলেও সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী সাত দিনে এসব নদীর পানির স্তরও বাড়তে পারে। ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহ
গত ২৪ ঘণ্টায় মুহুরী ও হালদা নদীর পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানির স্তর স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী সাত দিনে এসব নদীর পানি সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধিসহ সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে।
কালের সমাজ/এএইচবি

