কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক স্কুলছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলোয় সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় বোন বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছিল। সর্বশেষ এমন ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দিনের আলোয় শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান এবং তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম অনিক(১৯) তার বাবার নাম খোকন এবং মায়ের নাম শারমিন। তাঁদের বাড়ি কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গালকাটা এলাকায় হলেও অভিযুক্ত ছোটবেলা থেকেই মাধবদী গ্রামে তার নানাবাড়িতে বসবাস করে আসছেন।
হামলার পর থেকে স্কুলছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর আবারও হামলার শিকার হতে পারেন তাঁরা। ফলে পুরো পরিবার এখন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একটি কিশোরী শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কালের সমাজ/কে.পি

