বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের প্রত্যক্ষ করবে লাখ লাখ মানুষ। তবে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে এই দৃশ্য দেখা যাবে না। বুধবার (১২ আগস্ট) স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, পর্তুগালের একটি অংশ, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এ সময় পশ্চিম ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও উত্তর ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সূর্যের আলো আংশিকভাবে ঢেকে যাবে।
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে সরাসরি অবস্থান করে এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ হয়। চাঁদের ছায়ার সবচেয়ে অন্ধকার অংশ বা প্রচ্ছাদন বা উম্ব্রার মধ্যে থাকা মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। আর উপচ্ছাদন বা পেনামব্রায় থাকা ব্যক্তিরা দেখেন আংশিক সূর্যগ্রহণ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে হলে পৃথিবীর খুব সরু একটি অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করতে হয়। কারণ চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর তুলনামূলকভাবে ছোট একটি পথ তৈরি করে।
দুই দশক পর ইউরোপে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ
এটি মূল ভূখণ্ড ইউরোপে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৯ সালে। তখন ডেভন ও কর্নওয়ালের কিছু এলাকা পূর্ণগ্রাসের পথে ছিল। দেশটিতে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ২০৯০ সালের আগে দেখা যাবে না।
যদিও যুক্তরাজ্যে বুধবার পূর্ণগ্রাস নয়, তবে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। লন্ডনে স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ১৭ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে এবং শেষ হবে রাত ৮টা ৬ মিনিটে।
কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ, পশ্চিম স্কটল্যান্ডে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং লন্ডনে প্রায় ৯২ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে থাকবে। স্পেনের পূর্ণগ্রাস অঞ্চলে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৬ থেকে ৮টা ৩৩ মিনিটের মধ্যে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করেও সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়।
বিশেষ সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করে গ্রহণ দেখা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতিগুলোর একটি। এমন চশমা না থাকলে পিনহোল প্রজেক্টরের সাহায্যে পরোক্ষভাবে গ্রহণ দেখা যায়। একটি কার্ড বা কাগজে ছোট ছিদ্র করে তার মাধ্যমে সূর্যের আলো অন্য একটি কাগজের ওপর ফেললে সূর্যের পরিবর্তিত আকৃতি দেখা যায়। তবে কোনো অবস্থাতেই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়।
গ্রহণের সময় সূর্য দিগন্তের কাছাকাছি থাকবে। তাই যারা দেখতে চান, তাদের পশ্চিম দিগন্তে গাছপালা, ভবন বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই—এমন জায়গা বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ
সূর্যগ্রহণ শুধু দর্শনীয় ঘটনা নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে সূর্যের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং সূর্যের প্রায় ১১ বছরের সৌরচক্রের সঙ্গে এর পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব।
১৯১৯ সালের সূর্যগ্রহণের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সূর্যের কাছাকাছি থাকা নক্ষত্রের অবস্থান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ওই গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এদিকে ১২-১৩ আগস্ট রাতে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায়ও প্রত্যাশিত। ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকলে সূর্যগ্রহণের পর রাতের আকাশেও আরেকটি মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
কালের সমাজ/কে.পি

