ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

মাগুরার সরকারি হাউজিং প্রজেক্ট দিনে গো-চারণ ভূমি রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকা

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম মাগুরার সরকারি হাউজিং প্রজেক্ট দিনে গো-চারণ ভূমি রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকা

এক সময় যেখানে শরৎকাল এলেই নবগঙ্গা নদীর তীরে কাশফুলের শুভ্রতায় চোখ জুড়াত দর্শনার্থীদের, সেই মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী মোল্যা পাড়ায় অবস্থিত সরকারি হাউজিং প্রজেক্টটি এখন চরম অবহেলা ও যাতায়াত দুর্ভোগের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে এখন কেবলই আগাছার জঙ্গল ও ঝোপঝাড়। দিনে এটি পরিণত হয় গবাদিপশুর বিচরণক্ষেত্রে, আর সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে ভুতুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সরেজমিনে দেখা যায়, নবগঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে তৈরি এই সরকারি হাউজিং প্রজেক্টে ইটের সলিংয়ের রাস্তা ও তার দুই পাশে সারি সারি বৈদ্যুতিক খুঁটি পোঁতা রয়েছে। খুটতে বৈদ্যুতিক তারও টানা হয়েছে। 

কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পার হয়ে গেলেও কোনো খুঁটিতে জ্বলেনি সড়ক বাতি। ফলে রাতের বেলা পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। প্রজেক্টের অধিকাংশ পতিত জমিতে ঘন ঝোপঝাড় ও লতাপাতা জন্ম নেয়ায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে সংকীর্ণ একপায়ে রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ঝোপঝাড়ের কারণে দিনে-দুপুরেও সাপ, বিচ্ছু ও শেয়ালের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। যেখানে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আগে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত, সেই পরিচিত কাশফুলে ঘেরা প্রজেক্ট এখন একেবারেই জনমানবহীন। বর্তমানে বিশালাকার এই প্রজেক্টে মাত্র তিনটি পরিবার বসবাস করছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এবং সন্ধ্যার পর বহিরাগত ও মাদকসেীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। জানা যায়, ২০১৩ সালে এই প্রজেক্টে জমি বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়।

 এখানে মোট ১৫১টি প্লট রয়েছে। যার মধ্যে তিন কাঠার ১১৭টি এবং পাঁচ কাঠার ৩৮টি। অধিকাংশ প্লটই বরাদ্দ দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। হাতে গোনা পাঁচ-সাতটি প্লট বরাদ্দ দেয়া এখনো বাকি রয়েছে। স্থানীয় মোল্যা পাড়ার বাসিন্দা মো. ফারুক শিকদার বলেন, ‘দিনে স্থানীয়রা ঘাস খাওয়ানোর জন্য গরু বেঁধে রাখলেও অন্ধকার ও ভয়ের কারণে রাতে কেউ এই প্রজেক্টের দিকে যান না।’ মাগুরা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) ও মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, “প্রজেক্টটির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গোচরে এসেছে। শিগগিরই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে।”

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!