ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

এসবি সদস্য আলতাফ হত্যা: বাপ্পীসহ ১৪ জন ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম এসবি সদস্য আলতাফ হত্যা: বাপ্পীসহ ১৪ জন ৫ দিনের রিমান্ডে
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ২ নম্বর আসামি বাপ্পীসহ মোট ১৪ জন আসামির প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য প্রেক্ষাপট ও জড়িত অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত এই আদেশ দেন।

নিহত এসআই মো. আলতাফ হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এসবি শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং পাশাপাশি ওই এলাকায় নিজের জমিতে একটি টিনশেড কারখানায় মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে এক বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিকের কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা এসআই আলতাফ হোসেন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে মারধর করতে দেখে মানবিক কারণে এগিয়ে যান এবং এর প্রতিবাদ করেন।

প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাইভেটকারের লোকজন ও স্থানীয় বখাটে যুবকরা এসআই আলতাফের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন, তবুও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ দৌড়ে তার ছেলের পরিচালিত কারখানার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা আরও ১৫-২০ জনকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামকে উপর্যুপরি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে সাভার, আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় একে একে প্রধান আসামিসহ মোট ১৪ জন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং নেপথ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ নম্বর আসামি বাপ্পীসহ গ্রেপ্তার সকলকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১৪ জন আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের সমাজ/কে.পি

আইন ও আদালত বিভাগের আরো খবর

Link copied!