ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রায় দুই বছর ধরে নেই সিসিটিভি নজরদারিহীন লক্ষ্মীপুর শহর, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর | অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম প্রায় দুই বছর ধরে নেই সিসিটিভি নজরদারিহীন লক্ষ্মীপুর শহর, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও অপরাধী শনাক্তে স্থাপন করা লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় দুই বছর ধরে অচল। ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় অধিকাংশ ক্যামেরা ভাঙচুর ও চুরির হলেও তা পুনঃস্থাপনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে অপরাধ তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে একসময় যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, এখন সেখানে রয়েছে শুধু খুঁটি, ক্যামেরার বক্স কিংবা ঝুলে থাকা তার। কোথাও কোথাও ক্যামেরার কোনো অস্তিত্বই নেই। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকলেও সেগুলো মেরামত বা পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সহযোগিতায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা মিলত। কোনো ঘটনা ঘটলে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের  আন্দোলনের সময় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরে অধিকাংশ ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  কিছু ক্যামেরা চুরি হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সিসিটিভি ব্যবস্থা আর সচল করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বেড়েছে। অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী শনাক্তেও আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। দ্রুত শহরজুড়ে সিসিটিভি ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
লক্ষ্মীপুরের সচেতন নাগরিক কমিটি (সুজন)-এর সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, "সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু অপরাধী শনাক্তেই নয়, অপরাধ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।"

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা বলেন, "আন্দোলনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এগুলো পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, "সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলে অপরাধ দমন ও তদন্তের কাজ অনেক সহজ হয়। বর্তমানে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় অপরাধী শনাক্তে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুলিশ পুনরায় মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে।"

কালের সমাজ/কে.পি
 

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!