ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর পর্বের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ওবাইদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি। এ ছাড়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিরিনা খাতুন, সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আল মামুনসহ অন্যান্য শিক্ষক এবং শতাধিক নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন। পাশাপাশি নবীনদের উদ্দেশে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। নবীন শিক্ষার্থীরাও অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও নাটক পরিবেশন করেন।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিমাণগত অর্জনের পাশাপাশি গুণগত অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল বা উচ্চ বেতনের চাকরি অর্জনই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার পাশাপাশি বাবা-মা, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অধিকার আদায়ের আগে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে নবীন শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সম্মান করা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সুনাম বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সব শিক্ষককে সম্মান করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ ও বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

