নতুনদের আগমন আর পুরোনোদের বিদায়ের আবেগকে একসূত্রে বেঁধে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সনাতন ধর্মাবলম্বী নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের ১১৬ নম্বর কক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় ধর্মীয় বই ও পবিত্র গীতার বাণী সম্বলিত ‘স্বরূপ পত্র’ দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পবিত্র গীতা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিটন বরণ সিকদার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বাপ্পা সরকার, সহ-সভাপতি ও কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সজল রায়, কোষাধ্যক্ষ দুরন্ত রায় মিলন, দপ্তর সম্পাদক সুবংকর রায় ও নবীন শিক্ষার্থীরাসহ অন্যান্য সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অনুভূতি প্রকাশ করে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী বর্ণ রায় বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত আমাদের নবীন বরণ এবং প্রবীণ দাদা-দিদিদের বিদায় উপলক্ষে। পুরো আয়োজনটিই আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। পুষ্প দিয়ে আমাদের বরণ করা থেকে শুরু করে প্রতিটি আয়োজনই ছিল সুন্দর ও আনন্দময়। সবকিছু মিলিয়ে এটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও সেরা আয়োজন হয়ে থাকবে।”
কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী অঞ্জন কুমার রাহা বলেন, অনুষ্ঠানটি সত্যিই আমার কল্পনারও বাইরে ছিল। এত সুন্দর একটি দিন উপহার দেওয়ার জন্য আয়োজকদের প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা। পুরো আয়োজনজুড়ে অনেক আনন্দ করেছি, অনেক মজা হয়েছে। দিনটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নবীনদের স্বাগত জানিয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলারও জায়গা। তাই জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও বিনয়কে ধারণ করতে হবে। বিদায়ী অগ্রজদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অধ্যায় শেষ হলেও তাঁদের স্মৃতি, ভালোবাসা ও আদর্শ সবসময় সঙ্গে থাকবে। পূজা উদযাপন পরিষদকে একটি পরিবার উল্লেখ করে তিনি নবীন-প্রবীণের পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, নবীন বরণকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আনন্দঘন এ আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানের শেষাংশে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
কালের সমাজ/কে.পি

