ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন

প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে ঘিরে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

‎শারমীন সুলতানা মিতু, গাজীপুর | অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে ঘিরে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনকালে দরপত্র ও মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটা নিয়ে অভিযোগের পর এবার সামনে এসেছে প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন অভিযোগ। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এবং সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে দরপত্রে পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, যন্ত্রপাতির ভাড়া বাবদ অর্থ জমা না দেয়া, দোকান বরাদ্দ, কোভিড সরঞ্জাম কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য এবং নিয়োগ ও চাকরি নিয়মিতকরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনের সময় প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ডাস্টবিন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র এবং প্রায় ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটাকে ঘিরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনের সময়ও বিভিন্ন প্রকল্প ও ক্রয় কার্যক্রমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের সবগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে- এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করেছে এবং কিছু বিষয়ে সিটি করপোরেশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

গাজীপুরে ডাস্টবিন নির্মাণের দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন
২০২৬ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনকালে ডাস্টবিন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র নিয়ে প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পে বৈধ দরদাতাদের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে দরপত্রে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মেসার্স আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের দর ছিল সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা বেশি।

এ ঘটনায় দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার কারণ এবং অপেক্ষাকৃত বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সুদীপ বসাক কালের সমাজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তাকে ফোন করা হলেও এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতেই সংযোগ বিচ্ছিন করে দেন। পরবর্তীতে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।

৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য রাসায়নিক কেনাকাটাতেও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হয়। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রে জালিয়াতির অভিযোগও সেখানে উঠে আসে।

অভিযোগের সঙ্গে সুদীপ বসাকসহ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামও আসে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি ছিল, দরপত্রের কাজের আদেশে সুদীপ বসাক স্বাক্ষর করেছিলেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সুদীপ বসাক দৈনিক কালের সমাজর কাছে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির বিষয়টি তিনিই শনাক্ত করেছিলেন এবং তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি।

গাজীপুরের এই অভিযোগগুলোর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে তার দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন ঘটনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অভিযোগের সূত্রপাত, ২০০৬ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যোগদানের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৯ জুলাই কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখায় (পুল) উপসহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন সুদীপ বসাক।

নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কীভাবে তিনি দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে ওই পদে যোগদান করেছিলেন, সে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

২০০৯ সালে চাকরি নিয়মিতকরণ
এর প্রায় তিন বছর পর ২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বর সুদীপ বসাকসহ আরও পাঁচজন উপসহকারী প্রকৌশলীর চাকরি নিয়মিত করা হয়।

পরবর্তীতে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত হন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছরের মধ্যে তাঁর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত হওয়াও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

২০১৯ সালে দুদকের গণশুনানিতে একাধিক অভিযোগ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানিতে প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।

গণশুনানিতে একজন অভিযোগকারী দাবি করেন, তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ বসাক তাঁর এক আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুটি ওয়েব্রিজের কাজ করিয়েছেন।

অভিযোগটি সুদীপ বসাক অস্বীকার করে বলেন, কাজটি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে দুদক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিল।

দুটি ওয়েব্রিজে ৮০ লাখ টাকার কার্যাদেশের অভিযোগ
পরবর্তী এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আত্মীয়ের মালিকানাধীন এ ওয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং নামের প্রতিষ্ঠানকে দুটি ৫০ টন ওয়েব্রিজের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে প্রতিটি ওয়েব্রিজের বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়। ফলে কার্যাদেশের অর্থ ও বাজারমূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের বিষয়টি সামনে আসে।

একই প্রতিষ্ঠানের নামে পাথর সরবরাহের জন্য একাধিক কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত হয়।

২০২০ সালে দুদকের অনুসন্ধান
এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছিল দুদক।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে দরপত্র ও ক্রয়সংক্রান্ত ১৩ ধরনের নথি চাওয়া হয়।

এসব নথির মধ্যে ছিল হালিশহর গার্বেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, খাল খনন প্রকল্প, এক্সকাভেটর ক্রয়, সাগরিকা ও হালিশহর এলাকার ওয়েব্রিজ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত নথি।

দুদকের চিঠিতে ৫০ টন ধারণক্ষমতার দুটি ওয়েব্রিজ সরবরাহ ও স্থাপন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ ছিল, প্রায় ৮০ লাখ টাকার ওই কাজের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে।

২০২২ সালে যন্ত্রপাতির ভাড়া ও দোকান বরাদ্দ নিয়ে তদন্ত
২০২২ সালের মার্চে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে প্ল্যান্ট, রোলার ও মরদেহ পরিবহনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ভাড়া বাবদ অর্থ সিটি করপোরেশনের তহবিলে জমা না দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে।

অভিযোগ ছিল, এসব যন্ত্রপাতি ভাড়া দিয়ে পাওয়া অর্থ যথাযথভাবে সিটি করপোরেশনের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি।

একই তদন্তে পাঁচলাইশে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিজের সামনে দুটি দোকান বেআইনিভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

তবে ওই তদন্তের পর কমিটি কী প্রতিবেদন দিয়েছিল, অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য থেকে স্পষ্ট কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালে কোভিড আইসোলেশন সেন্টারের কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দামের অভিযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কোভিড আইসোলেশন সেন্টারের জন্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনাকাটাতেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের শুনানির নোটিশ এবং দুদকের তদন্তের বরাত দিয়ে বলা হয়, কয়েকটি পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে কেনা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়-

-৪০ টাকার মগ কেনা হয় ১৫০ টাকায়।

-৯৫০ টাকার হ্যান্ড গ্লাভস কেনা হয় ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

-২৮০ টাকার বেডশিট কেনা হয় ৭০০ টাকায়।

-এছাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দামের বেড কেনা হয় প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ টাকায়।

দুদকের তদন্তে বাজারমূল্য যাচাই না করে এবং টেন্ডার ছাড়াই কেনাকাটার বিষয়টি উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সুদীপ বসাকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা, প্রশ্ন তদন্তের ফলাফল নিয়ে
২০০৬ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া চুক্তিভিত্তিক যোগদানের অভিযোগ দিয়ে যে প্রশ্নের সূত্রপাত, পরবর্তী সময়ে তা চাকরি নিয়মিতকরণ, পদোন্নতি, সরকারি ক্রয়, ওয়েব্রিজ, দরপত্র, আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ, যন্ত্রপাতির ভাড়া, দোকান বরাদ্দ এবং কোভিড সরঞ্জাম কেনাকাটার অভিযোগ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এরপর চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনের সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে দরপত্র ও মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটা নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

একদিকে গাজীপুরে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ডাস্টবিন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ—দুই ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের  বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করেছে, কিছু বিষয়ে সিটি করপোরেশন তদন্ত কমিটি করেছে এবং কিছু বিষয়ে মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি বা অভিযোগ গুলোর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুদ্বীপ বসাকের বক্তব্য জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ওয়েব্রিজ সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে কাজটি নিয়ম মেনে হয়েছে বলে দাবি করেছেন। আর গাজীপুরের মশক নিধন রাসায়নিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি তিনিই শনাক্ত করেছিলেন এবং কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি।

২০০৬ সালের ৯ জুলাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে যান্ত্রিক শাখায় (পুল) উপসহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন সুদীপ বসাক। পরে ২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বর সুদীপসহ আরও পাঁচ উপসহকারী প্রকৌশলীর চাকরি নিয়মিত করা হয়। ১০ বছরেই তিনি হয়ে যান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর চসিক নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!