আর মাত্র কয়েকদিন পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে পাবনার ঈশ্বরদীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরিতে কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামীকাল ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। এরপর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দেশে উদযাপিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে শুকানো, প্রলেপ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কারিগরদের ব্যস্ততা।
কারিগররা জানান, প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে রং-তুলির কাজ। নিখুঁত আঁচড়ে দেবী দুর্গার চোখ, মুখ ও বিভিন্ন অঙ্গের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হবে। শেষ মুহূর্তের এসব কাজে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাদের। ঈশ্বরদী রেলগেট মাতৃ মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কারিগর মুকুল সাহা বলেন, প্রতিমার মাটির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। দু-এক দিনের মধ্যেই রং করার কাজ শুরু হবে। রং-তুলির নিখুঁত আঁচড়ে দেবী দুর্গার পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা থাকবে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে ঈশ্বরদীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পূজার সব প্রস্তুতি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতায় এবারও ঈশ্বরদীতে উৎসবমুখর ও সম্প্রীতির পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এ বছর ঈশ্বরদী উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার বলেন, এবার ঈশ্বরদীতে ৩৪টা পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য ঈশ্বরদীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পূজার পুরো সময়জুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। সব মিলিয়ে প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে এখন সরগরম ঈশ্বরদী। অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক দিনের এরপর ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো।
কালের সমাজ/কে.পি

