সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডকে কেবল বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি সীমিত হয়ে যায়। বরং বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে প্রয়োজন তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের এই কর্মসূচি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক সোশ্যাল প্রোটেকশন উইক ২০২৭’-এর উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় আরও জোরদার করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব শুধু দেশের অভ্যন্তরে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার সমন্বয় ঘটানো। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পথও অনুসন্ধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং আয়বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করার সুযোগ রয়েছে।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মসূচির সমন্বয় যত বেশি কার্যকর হবে, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগও তত বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে উপকারভোগীদের প্রয়োজন চিহ্নিত করা এবং তাদের কাছে যথাযথভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কর্মসূচির আওতা ও বাস্তবায়নপদ্ধতি এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ বঞ্চিত না হন। এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এ খাতে দেশের উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে বৃহত্তর বৈশ্বিক সামাজিক সুরক্ষার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করার মাধ্যমে সর্বজনীন সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয় নয়; মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার কার্যকর সমন্বয় ঘটানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে উপকারভোগীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এডিবির ‘এশিয়া-প্যাসিফিক সোশ্যাল প্রোটেকশন উইক ২০২৭’-এর উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশনে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে সামাজিক সুরক্ষাকে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বজনীন বৈশ্বিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কালের সমাজ/কে.পি

