ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‎স্থায়ী ঠিকানা নেই , এটাই কি আমার দোষ: সরকারি চাকরি থেকে বাদ পড়া শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ | অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম ‎স্থায়ী ঠিকানা নেই , এটাই কি আমার দোষ: সরকারি চাকরি থেকে বাদ পড়া শিক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় থাকেন। ‎মিশন আচার্য জানান, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত হন। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ‎ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছেন বলে জানান মিশন। ‎তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অপরজন তিনি নিজে। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অধিকার করেন বলে জানান। ‎মিশন আচার্যের দাবি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে- এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশ তদন্তের সময় তিনি ওই জমির দলিলও জমা দেন। 

তবে সেখানে তার কোনো বাড়ি নেই এবং তিনি কখনো ওই জমিতে বসবাস করেননি। ‎তিনি আরও জানান, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জমির দলিল জমা দিলেই হবে বলে জানানো হয়। সে অনুযায়ী তিনি দলিল জমা দেন। পরে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ‎মিশন আচার্য বলেন, আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি। ‎তিনি আরও বলেন, আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে; কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। 

মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, একটা সমাধান হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!