ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুচছে ইলিশের ঘাটতি, দাম নামতে পারে অর্ধেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম ঘুচছে ইলিশের ঘাটতি, দাম নামতে পারে অর্ধেকে

ইলিশের বাজারে হাহাকারের মধ্যেই এলো সুখবর। দীর্ঘদিন বাজারে ইলিশের সংকট থাকলেও এখন বরিশালের বিভিন্ন মোকাম ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বাড়তে শুরু করেছে ইলিশের সরবরাহ। নদ-নদীর পাশাপাশি সমুদ্রেও জেলেদের জালে তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারদরে। ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের দাবি, আগামী সপ্তাহে সরবরাহ আরও বাড়লে ইলিশের দাম অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

ভোলার বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সামরাজ ঘাটে এখন একের পর এক ইলিশভর্তি ট্রলার আসছে। আড়তদারদের হাঁকডাক, ক্রেতাদের ভিড় ও শ্রমিকদের ব্যস্ততায় সরগরম হয়ে উঠেছে কেন্দ্রটি। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও সেখানে ইলিশের সংকট ছিল।


সামরাজ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ মণ ইলিশ আসছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ বাড়ায় প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সামুদ্রিক ইলিশের অন্যতম মোকাম বরিশালের মহিপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে এসব কেন্দ্রে এখন প্রতিদিন গড়ে ২০০ মণের বেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও একই মাছের দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

বরিশালের নদীর ইলিশের অন্যতম পাইকারি মোকাম পোর্ট রোড মৎস্য আড়তেও বেড়েছে সরবরাহ। সেখানে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৯০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে ২ হাজার ২৫০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে একই আকারের ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি।


পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সভাপতি জহির সিকদার বলেন, বৃহস্পতিবার ২২০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে। আগে যেখানে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ মণের বেশি ইলিশ আসত না, সেখানে এখন সরবরাহ অনেক বেড়েছে।

তিনি জানান, আগে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৯০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯৯ হাজার টাকা থেকে কমে ৭০ হাজার টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮৫ হাজার টাকা থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

জহির সিকদারের ধারণা, আগামী সপ্তাহে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে বাজারে মাছের দাম আরও কমে প্রতি কেজি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ মণ সামুদ্রিক ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও এর অর্ধেক পরিমাণ মাছও আসত না। এখন এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে দাম ছিল এক লাখ টাকারও বেশি।

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রহিম খান জানান, বর্তমানে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।


চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তারেক আজিজ বলেন, ইলিশের সরবরাহ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে দামও দ্রুত কমেছে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বর্তমানে ৭৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিল।

বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ মাছ বাজারের ক্রেতা শ্যামল সরকার বলেন, তিনি ৮০০ গ্রাম ওজনের তিনটি ইলিশ কিনেছেন। প্রতি কেজি দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। কয়েক দিন আগেও একই আকারের ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি।

মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত আরও বেশি ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্র থেকেও পর্যাপ্ত ইলিশ আসছে। ফলে বাজারে ইলিশের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!