ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে বগডহর (আলগা হাটি) আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- গত (২৩/৯/২৬) বিকালে বগডহর গ্রামের কাদের মিয়ার ছেলে আওয়াল মিয়া (পিতা-কাদের মিয়া) ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদের পোস্টার লাগায়। কিছুক্ষণ পর একই গ্রামের বুজু মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া (পিতা- বুজু মিয়া) ও একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেয়।
অভিযোগ রয়েছে- মিন্টু মিয়ার লোকজন আওয়াল মিয়ার লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে আওয়াল মিয়ার লোকজন বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার (২৪/৯/২৬) মিন্টু মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ছাড়া একটি বসতঘরে ঢুকে নগদ ৯০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় বাধা দিতে গেলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফারজানা (২৩) নামে এক গৃহবধূকে আঘাত করা হলে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- ফারজানা (২৩) স্বামী- সাদির মিয়া, মরিয়ম (২৬) স্বামী- বাছির মিয়া, শামসুন্নাহার (৩০) স্বামী- শহীদুল্লাহ, সাদির মিয়া (৩২) পিতা- বাছির মিয়া এবং রোজিনা স্বামী- তোত মিয়া। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহত ফারজানাসহ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ফারজানার স্বামী সাদির মিয়া বলেন- "আমার স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আমরা বর্তমানে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
কালের সমাজ/কে.পি

