ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নাঙ্গলকোট–মনোহরগঞ্জ সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষ, কারখানায় হামলা-লুটপাটের অভিযোগ; আহত অর্ধশত

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম নাঙ্গলকোট–মনোহরগঞ্জ সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষ, কারখানায় হামলা-লুটপাটের অভিযোগ; আহত অর্ধশত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুঁজকরা এলাকায় আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ নামের একটি কারখানায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় বিপুল পরিমাণ মালামাল ও নগদ অর্থ লুটসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নাঙ্গলকোটের পুঁজকরা ও মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সীমান্তবর্তী জামাইর দোকান এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে নাথেরপেটুয়া বাজারে একটি নারীকে উদ্দেশ করে কথাবার্তাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃহস্পতিবার তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুঁজকরা এলাকায় অবস্থিত আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় হামলার অভিযোগ ওঠে। 

কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একদল লোক কারখানায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন মালামাল ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। কারখানার চারটি ডিপোর টাকা লুট করা হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করে, হামলার সময় কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা, অফিস ও মালামাল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বাধা দিতে গেলে কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয়। এ সময় কারখানার আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। 

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, লাকসামসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের কারণে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলও ব্যাহত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ হিসাব এবং হামলা ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে। দুই থানারই পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। দুই উপজেলার এমপি মোহদয়  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!