দৈনিক কালের সমাজে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ঘুম ভাঙলো মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের। ২৩৫ ইউনিটের বিপরিতে আসা ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিলটি তড়িৎ সংশোধন করে গ্রাহকের হাতে পৌছে দেয় আড়পাড়া জোনাল অফিসে কর্মরতরা। সংশোধিত এক হাজার ৯৬৩ টাকার বিলটি মঙ্গলবার সকালে পরিশোধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ভূক্তভোগী গ্রাহক মোছা: আলেয়া খাতুন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের ডিজিএম, বিলিং সুপার ভাইজার, বিলিং সহকারী ও মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছেন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
চোখ কপালে ওঠার মতো এই ভৌতিক বিলের কপি নিয়ে গত সোমবার সকালে এ প্রতিনিধি মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম-এর দপ্তরে গিয়ে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
মঙ্গলবার দৈনিক কালের সমাজে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মাগুরায়, বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং নড়েচড়ে বসে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। নিউজের প্রভাবে নজিরবিহীন দ্রুততায় সংশোধন করা হয় বিলটি।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা: আলেয়া খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন বিল সংশোধন করে আমার বাড়িতে এসে দিয়ে যায়।
আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথেই বিলটি দ্রুত সংশোধন করে গ্রাহককে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করি। মঙ্গলবার সকালে উক্ত গ্রাহক সংশোধিত বিলটি জোনাল অফিসের ক্যাশ শাখায় পরিশোধ করে দিয়েছেন।”
তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন হওয়ার কারণে বিলিং সহকারী কর্তৃক ভুলবশত: মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড-এর ঘরে (অর্থাৎ অনুমোদিত লোডের ঘরে) পোস্টিং দেয়ায় সফটওয়্যার-এ ডিমান্ড চার্জ অটো পোস্টিং হওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে সদর দপ্তর কর্তৃক চার জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিল তৈরি, বিল প্রদানসহ দ্রুত ও মানসম্পন্ন গ্রাহক সেবা প্রদানে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পুনরায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, “সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের ডিজিএম, বিলিং সুপার ভাইজার, বিলিং সহকারী ও মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।”
কালের সমাজ/এসআর

