ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পার্বতীপুরে এলজিইডির উন্নয়নে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ

পার্বতীপুর | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম পার্বতীপুরে এলজিইডির উন্নয়নে  পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ

শুধু রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ নয়—গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হাটবাজার সংযুক্ত সড়ক ও বাজার অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এসব উন্নয়নকাজের ফলে পার্বতীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। 

কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতও সহজ হচ্ছে। এলজিইডির চলমান ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। এলজিইডির প্রকল্প তথ্যেও পার্বতীপুর উপজেলায় বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য রয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সংগঠন ভূমি ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সাত দফা দাবির মধ্যে একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে।

 হামিদপুর ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হচ্ছে। আগে প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে ঘুরে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে সড়কটির কাজ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অর্থায়নে এলজিইডির কারিগরি সহায়তায় কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, অধিগ্রহণকৃত কয়লাখনি এলাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খয়েরপুকুর-ফুলবাড়ী সংযোগ সড়কের বিকল্প সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পাকা সড়কের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। 

প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজের তদারকি করছেন। সড়কটি প্রশস্ত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধা বাড়ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হামিদপুর ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত সড়কের বেশির ভাগ অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের কাজও চলছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি চালু হলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। পার্বতীপুর উপজেলায়ও এ ধরনের প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়নের কাজ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশাপাশি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রামীণ সড়ক টেকসই করতে সোলিং, সিসি ঢালাই, হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি), পানি নিষ্কাশন ড্রেন ও পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজও বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ৬ নম্বর মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হচ্ছে। 

গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সহজে শহরের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারছে। একই সঙ্গে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও সুবিধা হচ্ছে। এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে উন্নয়নকাজগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। ২ নম্বর মন্মথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ ওয়াদুদ শাহ বলেন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য সহজেই বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মানিক মিঞা বলেন, উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজও চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়কের পরিবর্তে পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় শুধু যাতায়াতের সুবিধাই নয়, কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পার্বতীপুরের গ্রামীণ জনপদের চিত্র।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!