রবি মৌসুমের আগে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার যখন বিপুল পরিমাণ সার আমদানি করছে, তখন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার পরিবহন কার্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডেইলি ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে জিটুজি ব্যবস্থায় আমদানি করা টিএসপি ও ডিএপি সার পরিবহনের জন্য ১০টি লটে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টনের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম আটটি লটের লে-ক্যান ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো লোডিং বন্দরে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জাহাজগুলো কোথায়, কখন সার লোড হবে এবং কবে দেশে পৌঁছাবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আরও প্রশ্ন উঠেছে, আগের লটগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়ার মধ্যেই একই প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী দুটি লটের কার্যাদেশ কীভাবে দেওয়া হলো। সূত্র অনুযায়ী, নবম ও দশম লটের লে-ক্যান ৭ থেকে ৯ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাহাজের নাম, ওগঙ নম্বর, চার্টার পার্টি, লোডিং পোর্ট ও সর্বশেষ অবস্থান যাচাই করলে প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে পারে। লে-ক্যান অতিক্রমের পর চুক্তি অনুযায়ী কোনো জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে বিএডিসির ম্যানেজার (ক্রয়) আহমেদ হাসান আল মাহমুদের কাছে জাহাজের অবস্থান, চুক্তিগত ব্যবস্থা এবং পরবর্তী কার্যাদেশের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি একটু পরে কল করছি।” পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিএডিসির সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ডেইলি ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ডেইলি ট্রেডিংকে ধারাবাহিকভাবে কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএডিসি ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ যাচাইয়ে টেন্ডার নথি, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যাদেশ, চুক্তি, জাহাজের তথ্য, চার্টারার নিয়োগের কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন। সরকার রবি-বোরো মৌসুম সামনে রেখে বড় পরিসরে সার আমদানি করছে।
২৪ আগস্ট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর আরও ১০ লাখ ৭৫ হাজার টন সার আমদানির বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় সার পরিবহনে জাহাজের বিলম্ব বা লে-ক্যান অতিক্রম করলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এখন মূল প্রশ্ন তিনটি—লে-ক্যান পেরিয়ে যাওয়া প্রথম আটটি লটের জাহাজগুলো কোথায়, চুক্তি অনুযায়ী বিএডিসি কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আগের লটের বাস্তবায়ন স্পষ্ট হওয়ার আগেই একই প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী কার্যাদেশ কেন দেওয়া হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে কার্যাদেশ থেকে জাহাজের অবস্থান, লোডিং, সমুদ্রযাত্রা, খালাস ও সরবরাহ—পুরো প্রক্রিয়ার নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।
কালের সমাজ/কে.পি

