ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশারফ হোসেন একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির কক্ষে এই দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগের প্রভাষক রুকাইয়া আখতারের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, সদ্য বিদায়ী সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সরফরাজ নেওয়াজ, অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্কর, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন, ফাইন আর্টস বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ফকির, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল হোসেন ও প্রভাষক জাকির হোসেন সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রফেসর ড. রশীদুজ্জামান যেখানেই যান, দক্ষ এবং অত্যন্ত পরিপক্বতার সাথে মালী হিসেবে ফুল ফোটানোর কাজটি করেন। যেখানেই যান, সফলতা তার পথ ছুঁয়ে আসে। জার্নালিজম বিভাগেও সেটিই হয়েছে। সাবেক সভাপতি বিভাগকে যেখানে রেখে গেল তন্ময় সেখান থেকে যাত্রা শুরু করবে এবং ওর নেতৃত্বে বিভাগ এগিয়ে যাবে। তার যে প্রশস্ত পদচারণা আছে, সে জায়গা থেকে একটা বিভাগ চালানোর জন্য সে যথেষ্ট যোগ্য। তন্ময় সাহা জয়ের জন্য আমাদের সবার দোয়া ও শুভকামনা থাকবে। সদ্য সাবেক বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান বলেন, “এই বিভাগের প্রতি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তন্ময়ের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অনেক গভীর। আমি নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালন শেষে এখান থেকে কোনো ব্যথা, যন্ত্রণা বা অপ্রাপ্তি ছাড়াই বিদায় নিচ্ছি। শিক্ষক হিসেবে পদ, পজিশন বা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার পেছনে না ছুটে সবসময় বিভাগে নিজের সর্বোচ্চ সময় ও শ্রম দিয়ে সেবা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।
বিভাগে নবনিযুক্তদের ওপর আমার গভীর আস্থা রয়েছে এবং আমি সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এই বিভাগের সাথেই যুক্ত থাকব। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা সকল খবর ও ঘটনার আগে থাকে, যার মাধ্যমে বিভাগে এমন একঝাঁক সাহসী তরুণ তৈরি হবে যারা জীবন বাজি রেখে সততা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করবে। এটিই এই বিভাগের মূল উদ্দেশ্য ও ভাবনা। তন্ময়ের নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতে আরো সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে এবং সাংবাদিকতা বিভাগ সমস্ত ভাবনার শীর্ষে অবস্থান করবে বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। নবনিযুক্ত বিভাগীয় সভাপতি সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় বলেন, “স্যারের প্রচেষ্টায় আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। আমাদের বিভাগে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নিত্যনতুন চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। পর্যাপ্ত ফান্ড ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। তবে শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল বা হাতে-কলমে দক্ষ করে তুলতে বিভাগীয় ল্যাবগুলোর আধুনিকায়ন ও দ্রুত সুসজ্জিতকরণ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিভাগ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনেও ল্যাবসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।
কালের সমাজ/কে.পি

