কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের ফরিদ মৌলভীর ঘোনায় প্রায় ১০০ একর আয়তনের একটি বিশালাকার মৎস্যঘেরে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেয়া এই বিষে মুহূর্তেই ভেসে উঠেছে কোটি টাকার সম্পদ। এক রাতের এই নৃশংসতায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন ঘেরের ক্ষতিগ্রস্ত ৮ জন চাষি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ফরিদ মৌলভীর ঘোনার বিশালাকার জলাশয়ে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। সুবিশাল ঘেরের পানিতে আর কোনো মাছের ছোটছুটি নেই; ভেসে রয়েছে কেবল হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণহীন মাছ। ঘেরের পাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃত মাছ খেতে ভিড় করছে বকসহ নানা প্রজাতির পাখি। অনেক স্থানীয় শিশু ও বাসিন্দাকে ঘেরের পাড় থেকে মৃত মাছ কুড়িয়ে নিতে দেখা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি মনজুর আলম ও বেলাল আহমদ অশ্রুসজল চোখে জানান, তারা ৭-৮ জন মিলে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে প্রায় ১০০ একর জমিতে দীর্ঘদিনের শ্রম ও ঘামে এই মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। নিজেদের জমানো মূলধনের পাশাপাশি এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তাদের মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৯০ লাখ টাকা। মাছগুলো বাজারে বিক্রির একদম উপযুক্ত সময় হয়ে এসেছিল। ঠিক এই মুহূর্তেই দুর্বৃত্তরা তাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল।
তাদের অভিযোগ, গত শুক্রবার গভীর রাতে ১০ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত দল ঘেরে প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগ করে পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে ঘেরে এসে তারা চারদিকে শুধুই মৃত মাছ ভাসতে দেখেন। চাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজেদের টাকা ছাড়াও অনেক টাকা ঋণ ও ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছিলাম। মাছ বিক্রির ঠিক আগমুহূর্তে এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। আমরা এখন পুরোপুরি সর্বস্বান্ত ও দিশেহারা।”
মাছচাষিরা মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত অপরাধিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগী চাষিদের সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন, “ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত শুরু করা হবে এবং বিষ প্রয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এত বড় একটি মৎস্যপ্রকল্পে বিষ প্রয়োগের ঘটনা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এর পেছনে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে এত বড় নাশকতা চালাল—তা দ্রুত উন্মোচন করা না গেলে অঞ্চলের মৎস্য খাত চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এক রাতের এই বিষাক্ত থাবায় শুধু মাছই মরেনি, নিভে গেছে তাদের পরিবার ও শ্রমিক পরিবারের জীবিকা ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
কালের সমাজ/কে.পি

