বাগেরহাটের মোল্লাহাটে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুসলিমা শেখ (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ জাহাঙ্গীর ও তাঁর দুই ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর বাবার দাবি, দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
শনিবার বিকেলে উপজেলার কচুড়িয়া পশ্চিম পাড়ায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। নিহত মুসলিমা ওই গ্রামের ইসলাম শেখের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল চারটার দিকে মুসলিমা প্রতিবেশী এক শিশুর সঙ্গে খেলতে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিশুটির নিখোঁজের খবর জানান। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় লোকজন জাহাঙ্গীর শেখের বাড়ির পানের বরজের পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পান। কলাগাছের সুতা দিয়ে বাঁধা এবং আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা বস্তাটি খুলতেই মুসলিমার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর শেখের বসতঘর, রান্নাঘর, মুরগির খামার ও পানের বরজে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও জনতাকে শান্ত করতে সহায়তা করেন। নিহত শিশুর বাবা ইসলাম শেখের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর শেখ বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই টাকা না দেওয়ার আক্রোশেই নিষ্পাপ মুসলিমাকে হত্যা করা হয়েছে। মোল্লাহাট থানার (ওসি) শাহাদাত হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রুজু হওয়া ২১ নম্বর মামলা)। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শেখ জাহাঙ্গীর এবং তাঁর দুই ছেলে রমজান শেখ ও আব্দুর রহমান শেখকে আটক করেছে। ওসি আরও জানান, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং মরদেহ গুম করার চেষ্টায় কারা জড়িত—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর যারা অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতা ঘটিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবার ও এলাকাবাসী এখন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
কালের সমাজ/কে.পি

