ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাক্ষী থেকে চাঁদাবাজি মামলার আসামি, পুনঃতদন্তের দাবি

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম সাক্ষী থেকে চাঁদাবাজি মামলার আসামি, পুনঃতদন্তের দাবি

নওগাঁর মান্দায় চাঁদাবাজির মামলায় সাক্ষী থেকে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। একই মামলায় ঘটনার সময় কথিত ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও আল-আমিন হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁর স্বজন ও স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা পুনঃতদন্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার আসামি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দাবি করেন, স্থানীয় বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই মামলা রেকর্ড এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেলুয়াবাড়ী বাজারের সাইকেল মেরামতকারী আব্দুল জলিলের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মোছা. মিরজান বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ চককানু গ্রামের মৃত কাজীমুদ্দিনের ছেলে আল-আমিন হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

তবে সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিনের স্বজন ও স্থানীয়রা দাবি করেন, ঘটনার সময় আল-আমিন দেলুয়াবাড়ী বাজার কিংবা কথিত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের প্রশ্ন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা একজন ব্যক্তিকে কীভাবে ওই মামলায় আসামি করা হলো এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তদন্তে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না।

মামলার আরেক আসামি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য, ঘটনার পর বাদীপক্ষ থানায় যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল, সেখানে আনোয়ার হোসেনকে সাক্ষী রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি কথিত চাঁদাবাজির ঘটনায় সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকেই উল্টো মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, যে অভিযোগে তাঁকে প্রথমে সাক্ষী করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি এবং সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিহিংসাবশত তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দেলুয়াবাড়ী বাজারের সাইকেল মেরামতকারী আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে স্থানীয় স্কুলপড়ুয়া কিশোরদের ‘ড্যান্ডি’ নামের মাদকদ্রব্যে আসক্ত করার অভিযোগও তোলেন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন কিশোর বাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে তাঁর কাছে বিক্রি করত এবং এর বিনিময়ে তাদের হাতে মাদক তুলে দেওয়া হতো। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে অভিভাবক সোহেল রানার সঙ্গে জলিলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লালচান, ইয়াপেশ, রুবেল ও আনোয়ারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল জলিল বা মামলার বাদী মোছা. মিরজানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই, ঘটনার সময় আল-আমিনের অবস্থান নির্ণয় এবং সাক্ষী থেকে আনোয়ার হোসেনের আসামি হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানান। একই সঙ্গে মামলাটি পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, বাদিনীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে চার্জশিট থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে। কে সাক্ষী ছিলেন কিংবা কে ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!