ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনায় ইসিএসএপি প্রকল্পের সিএসওদের কার্যকর অংশ গ্রহনে জেলা প্রশাসনের সংযোগ ও সমন্বয় সভা

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম পাবনায় ইসিএসএপি প্রকল্পের সিএসওদের কার্যকর অংশ গ্রহনে  জেলা প্রশাসনের সংযোগ ও সমন্বয় সভা

পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ সকলের। সংবিধান অধিকার দিয়েছে জন্ম নিলেই সে রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন। বিশ্বে সাদাকালো বৈষম্য থাকলেও আমাদের দেশে এই বৈষম্য নেই। সেটা সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক ক্ষেত্রে। রাষ্ট্র হলো সংবেদনশীল। নৃগোষ্ঠী বলে নয়। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত কিন্তু রাষ্ট্র করে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে মত প্রকাশে স্বাধীনতা বা ধর্ম পালনে কোন বাধার সম্মুখীন হয় না৷ সেখানে বৈষম্যের প্রশ্নই আসে না। 

মানুষে মানুষে বিভাজন করলেও রাষ্ট্র জনগনের জন্য কাজ করে। রাষ্ট্র জনগনের কোন শত্রু নয়্ কল্যাণ নিয়ে কাজ করে। সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের নেয়ার মানসিকতা নিয়ে আগাতে হবে। তবেই আপনারা সফল কাম হবেন৷ সমান অধিকারী মনে করে রাষ্ট্রের পাশে থেকে অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উদ্দেশ্য করে বলেন, নিজেদের রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির নাগরিক মনে করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানান তিনি। 

ইসিএসএপি প্রকল্পের সিএসওদের কার্যকর অংশ গ্রহনে নাগরিক পরিসর সম্প্রসারণে  জেলা প্রশাসনের সাথে সংযোগ ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সভার উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের ডিস্ট্রিক হিউম্যান রাইটস মনিটরিং কর্মকর্তা কামাল আহমেদ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‍‍`বাংলাদেশের সমতল এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনঘনিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোকে প্রস্তুতকৃত পজিশন পেপার উপস্থাপন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রেড‍‍`র কর্মসূচী সমন্বয়ক আশিকুর রহমান৷ সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সিনিয়র সিভিল জজ মোঃ আজহারুল ইসলাম। 

তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, লিগ্যাল এইড অফিস আপনাদের সেবা প্রদানে সব সময় খোলা। আইনগত সকল ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উম্মে তাবাসুম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর বক্তব্য দেন৷ ক্ষুদ্র আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠীর নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আসন্ন পূজা ঘিরে নাশকতা রোধে নিরাপত্তা, কর্ম সংস্থান, সম্পদায় ভিত্তিক স্কুল প্রতিষ্ঠা, পূজা পালনে মন্দির ঘর নির্মান, আবাসন ও ভুমি বরাদ্দ দেয়াসহ সরকারি নানা সেবা নিশ্চিতের আহবান জানান। অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় মতামত ব্যক্ত করেন  পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খান মরিচের  শেপালী বসাক, আটঘরিয়া শিপ্রা, ভাঙ্গুড়ার রনজিত বসাক ও ডা. দুলাল চন্দ্র সরকার। অনুষ্ঠানে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কমকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, ভাঙ্গুড়া উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন পর্যায়ের নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!