ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়াকে সম্মানসূচক মানপত্র প্রদান করেছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম। তাঁর দায়িত্বকালীন জনবান্ধব ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ফরিদগঞ্জের মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতা ও স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করে আসছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম। লেখক, কবি, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক নানা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল দখল বন্ধ ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও সংগঠনটির সক্রিয়তার নজির রয়েছে।
সম্প্রতি ফোরামের পক্ষ থেকে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার হাতে সম্মানসূচক মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তারা বলেন, একজন প্রশাসকের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জনদুর্ভোগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমাজের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নেওয়াই একজন জনবান্ধব কর্মকর্তার বড় পরিচয়। তাঁদের ভাষায়, সেটু কুমার বড়ুয়ার কর্মময় সময়ের নানা উদ্যোগ ফরিদগঞ্জবাসীর স্মৃতিতে দীর্ঘদিন থাকবে।
সেটু কুমার বড়ুয়া ৩৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফরিদগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদক কার্যক্রমে তিনি চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া কৃষি ও কৃষকের সহায়তায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব বদল প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও একজন কর্মকর্তার সঙ্গে একটি এলাকার মানুষের যে মানবিক সম্পর্ক তৈরি হয়, বিদায়ের মুহূর্তে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের মানপত্র প্রদান ছিল তেমনই এক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
ফরিদগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর কর্মসম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে লেখক ফোরামের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়—নতুন কর্মস্থলেও সেটু কুমার বড়ুয়া সততা, মানবিকতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
বিদায়ের এই মুহূর্তে মানপত্রের পাতায় তাই শুধু একজন কর্মকর্তার নাম নয়, লেখা রইল একটি সময়ের স্মৃতি— কর্মস্থল বদলায়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও ভালো কাজের স্মৃতি বদলায় না।
কালের সমাজ/কে.পি

