ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৪

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তবে ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল, এ কথা স্বীকার করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়নি, এমন প্রশ্নে অবশ্য স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। শনিবার দুপুরে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।


ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিরা অর্থের বিনিময়ে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন; তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


রাড্ডা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে বলে গতকাল পুলিশ জানিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

হানিফ মিয়া অবশ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক জনতাকে সেখানে দেখতে পায় এবং মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আজ তিনি বলেছেন, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই কীভাবে এত বড় পরিসরে ভাঙচুর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলল এবং তখন কাউকে আটক করা হলো না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।


এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। সরকারি ইপিআই কর্মসূচিও সেখানে পরিচালিত হতো।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!