ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভের সময় পুলিশ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানও ব্যবহার করা হয়।
দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিইসির পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করে কংগ্রেসের যুব সংগঠনসহ কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুলিশের ভাষ্য, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করায় তাদের আটক করা হয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কংগ্রেসের যুব শাখার সভাপতি উদয় ভানু চিব অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে প্রতিবাদ করার হুঁশিয়ারি দেন।
দিল্লির পাশাপাশি পাটনা, গুয়াহাটি, চণ্ডীগড়, লখনউসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। আসামে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পাটনা ও চণ্ডীগড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে সিইসি পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সিইসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয় দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আদেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে তাদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে বিহারে শুরু হওয়া বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) কার্যক্রমের আওতায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এসব বিষয়কে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্তগুলো স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামো মেনেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয় এবং সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
কালের সমাজ/এসআর

