পথচলার ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ। এ উপলক্ষে শুরু হয়েছে সংগঠনটির সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন। বৃহস্পতিবার পরিষদ চত্বরে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে সংগঠনের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাহিত্যিক মজিবুর রহমান বিশ্বাসের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। উৎসবের প্রথম দিন সন্ধ্যায় কবি মজিদ মাহমুদ কবিতা উৎসব ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক আশিকুর রহমান লুলু`র সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম সনু, মোস্তাক আহমেদ কিরণ, ইঞ্জিনিয়ার ওহিদুর রহমান ঝন্ট, সাধারণ সম্পাদক এস আলমগীর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান, সরকারি এস এম স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক শাহীন, পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহেদুজ্জামান টিপু, অধ্যাপক হাসানুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক খন্দকার মাহবুবুল হক দুদু, পরিষদের নির্বাহী সদস্য আদু বালা শীল প্রমূখ। পরিষদের সহসম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু`র সঞ্চালনায় কবি মজিদ মাহমুদের জীবনালেখ্য উপাস্থাপন করেন সাংবাদিক সেলিম সরদার। আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয় ।
তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে শোভাযাত্রা, শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ও গুণীজন সংবর্ধনা, স্মারক পদক প্রদান, বৃক্ষরোপণ এবং নানামুখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ঢাকা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. সিরাজুল ইসলাম মামুন। আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) গুণীজন সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এই উৎসবের পর্দা নামবে। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালের ১ অক্টোবর ঈশ্বরদী কলেজ মাঠে স্থানীয় শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী একঝাঁক মানুষের হাত ধরে পাঁচ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনের সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান কামাল জানান, প্রতিষ্ঠাকালে নিজস্ব অফিস না থাকায় কিছুদিন তাঁর বাসভবন ও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের পাশে কার্যক্রম চালানো হতো। পরবর্তীতে শহরের স্টেশন সড়কে নিজস্ব কার্যালয় নির্মিত হয়।
বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার (প্রায় ২ হাজার বই সংবলিত) পরিচালনাসহ নিয়মিত সাহিত্য চর্চা, সংগীত ও সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি। উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আশিকুর রহমান লুলু জানান, সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় শিল্প-সাহিত্যপ্রেমীদের উপস্থিতি ও পদচারণায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

