ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক তিন ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রামুতে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বজনরা হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মসজিদের ওয়াশরুম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ। তিনটি ঘটনাতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, রোববার রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে কাকারা এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা জিসানকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত ৩টার দিকে মালুমঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মরদেহের গলা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কারা জিসানকে অপহরণ করেছিল এবং কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকায় মুফিজুর রহমান বাবু (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্বজনদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে বাবুকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকার নিজ বোনের বাসা থেকে বাবুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে স্বজনরা পুলিশকে অবহিত না করে মরদেহ রামুতে নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রামুর বাড়িতে মরদেহ নেওয়ার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ার দাবি করেন স্বজনরা। এরপরই তারা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে তদন্তের দাবি জানান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত বাবু পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে বোনের বাড়িতে থেকে চাকরি করতেন বলে জানিয়েছে পরিবার। বাবুর বাবা আবুল কালাম বলেন, তার ছেলে কেন গলায় ফাঁস দিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করা প্রয়োজন। রামু থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি চট্টগ্রামে হওয়ায় শুরুতে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানত না। আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনরা কর্ণফুলী থানা পুলিশকেও অবহিত করেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঘটনাস্থলও তদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওয়াশরুম থেকে আবুল কালাম প্রকাশ আবু (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাজার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মসজিদের ওয়াশরুমে আবুল কালামের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত আবুল কালাম দক্ষিণ বড়বিল এলাকার মৃত আবদুল হামিমের ছেলে। তিনি দক্ষিণ বাইশারী এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে ‘আবু’ নামে পরিচিত এই ব্যবসায়ী চার সন্তানের বাবা। বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে তার একটি মুদির দোকান ছিল। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মনজুর আহসানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাইশারীর ছাদুঅং পাড়ায় একটি বৌদ্ধ বিহারের কাছে কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলম বাবুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আবুল কালামের মৃত্যু ও জাফর আলম বাবুলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তিন ঘটনায়ই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। জিসানের ঘটনায় অপহরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে; রামুর ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগ যাচাই এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘটনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!