ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬ দফায় আটক ২,২৮৭

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী  অভিযানে ৬ দফায় আটক ২,২৮৭

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধপ্রবণ তরুণদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে নতুন করে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালায় জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সর্বশেষ এ অভিযানে ২৫২ জন আটকের মধ্য দিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া ছয় দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮৭ জনে। এর আগে পাঁচ দফার অভিযানে ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। 

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার যেসব এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত, অপরাধপ্রবণতা ও সন্দেহজনক আড্ডা রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে সর্বশেষ অভিযানে আটক ২৫২ জনের মধ্যে কতজনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। 

পাঁচ দফায় আটক ২ হাজার ৩৫ জন জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রথম দফায় ৬২৪ জন, দ্বিতীয় দফায় ২৫৪ জন, তৃতীয় দফায় ৪১৫ জন, চতুর্থ দফায় ৩৭৯ জন এবং পঞ্চম দফায় ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়। এ পাঁচ দফায় মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫ জনে। পঞ্চম দফার অভিযান শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বাকি ৬২৬ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাঁদের আদালতের মাধ্যমে বিচারের আওতায় নেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।

 সর্বশেষ অভিযানে আটক ২৫২ জন যুক্ত হওয়ায় ছয় দফায় মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮৭ জনে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান জোরদার গত সেপ্টেম্বরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, কিশোর অপরাধ এবং অপরাধে উঠতি বয়সীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। এরপর কুমিল্লা জেলা পুলিশ জেলার ১৮টি থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। 

নগরী ও উপজেলার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা, কিশোরদের আড্ডাস্থল এবং গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকদের মধ্যে কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!