মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন। এ ছাড়া দুই আসামিকে পাঁচ বছর করে, একজনকে এক বছর এবং চার নারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে জিয়ার উদ্দিন, সামসুল হকের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, আ. রশিদ, জসিম ও আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জল, সামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাহরাইনে বসবাসকারী হাসিনা নামের এক নারীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে তাঁর ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে শামসুল হকের বাড়িতে তিনজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা নিহত হন। এ ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন ফরিদা আক্তার। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল পুলিশ ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার। তিনি জানান, রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।
কালের সমাজ/কে.পি

