যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা কমেছে—এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এতে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমঝোতার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। এমন প্রত্যাশায় টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৫টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ০.৮৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারের দাম ১.৩৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৬ দশমিক ৮২ ডলারে।
এর আগের সেশনে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৮ শতাংশের বেশি কমেছিল। এর ফলে ৩১ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে বাড়তি রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত করার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ বাড়তে পারে ওয়াশিংটনের। আর যুদ্ধের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ কমলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
তবে তেলের বাজারে পরবর্তী দর পরিবর্তন নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি, সামরিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। -আল জাজিরা
কালের সমাজ/এসআর

