ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন দশ শিখা চরাঞ্চল—দুর্ভোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিকাজ

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ | নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০২:১৯ পিএম একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন দশ শিখা চরাঞ্চল—দুর্ভোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিকাজ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার দশ শিখা ও চর দশ শিখা এলাকার মানুষের একমাত্র সংযোগ হলো বালু ফেলে তৈরি একটি সরু সড়ক। বহু বছর ধরে এই রাস্তা দিয়েই চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজারসহ সব প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করেন। কিন্তু বন্যা মৌসুম অথবা বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে এই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, গর্ভবতী নারী ও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটাও দুরূহ হয়ে পড়ে। পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, যা অতিক্রম করতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে খাটিয়া বা নৌকায় চড়েই যেতে হয়।
চরাঞ্চলে কৃষকরা যে সবজি, শাক, ভুট্টা বা ধান উৎপাদন করেন, তা পরিবহনেও চরম সমস্যা হয়। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ে।

চর দশ শিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে বর্ষায় বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় অভিভাবকরা ঝুঁকি এড়াতে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারেন না। যদি সরকার এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ করে দিত, তাহলে পুরো চরাঞ্চলের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসত।”

স্থানীয়রা জানান, দশ শিখা চরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের জন্য এটি ছাড়া আর কোনও সড়ক নেই। তাই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই সময় পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবি—এখানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সোহেল রানা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের কষ্ট আমি খুব কাছ থেকে দেখি। দ্রুতই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখানে একটি অস্থায়ী যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করব। পাশাপাশি স্থায়ী একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবিটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে একটি স্থায়ী ব্রিজ অপরিহার্য।”

কেন জরুরি স্থায়ী একটি ব্রিজ-
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে। রোগী পরিবহনে সময় ও ঝুঁকি কমবে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা সহজ হবে। চরাঞ্চলে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়বে। সারা বছর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকবে

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে-পরে বহুবার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই তারা এবার সত্যিকারের স্থায়ী সমাধান চান। বালুর রাস্তা নয়—একটি স্থায়ী ব্রিজই পারে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করতে।

 

কালের সমাজ/ সাএ

 

Side banner
Link copied!