রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেছেন, পূর্বে সাইক্লোন, মহামারি, বন্যা, মরুকরণ, নদীতে পানি শূন্যতা, সেচে পানি না আসা বা খাদ্য ভাণ্ডারে টান পড়াকে দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরা যদি সঠিকভাবে শিক্ষা না পাই, নৈতিকতা না থাকে তবে তার ফলে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হবে তা ভবিষ্যতে আমাদের মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। তাই শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগকেও প্রতিহত করতে হবে।
‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’ – এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহীসহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোতেও একযোগে দিবসটি পালন করা হয়।
আফিয়া আখতার বলেন, ইন্টারনেটে আমাদের সন্তানেরা যেভাবে আসক্ত হচ্ছে, এটা আধুনিক যুগের মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। নৈতিকতা, আচরণ এবং সামাজিকতা সবকিছুতেই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। তাই নৈতিকতার যে দুর্যোগ সমাজে বিরাজমান সেটা প্রতিরোধ করতে হবে। নৈতিকতার অভাবে খাদ্যে ভেজাল বা বিষ প্রয়োগেও আমরা বিরত থাকি না। এগুলোও দুর্যোগ এবং এর প্রতিরোধ জরুরি।
দুর্যোগ প্রতিরোধে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুর্যোগ প্রতিরোধ বা দুর্যোগ প্রশমনের প্রস্তুতি হিসেবে সরকার থেকে নাগরিকদের টিন এবং ৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। রাষ্ট্র তার সক্ষমতা অনুযায়ী নাগরিকদের এ ত্রাণ সহায়তা করছে। কিন্তু এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে। নাগরিক সচেতন থাকলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো.আব্দুল হাই সরকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী, রাজশাহী জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক নাফেয়ালা নাসরীন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনায়েত উল হক, রাজশাহী রেডক্রিসেন্টের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

