ঢাকা বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সুন্দরগঞ্জে হিমাগার সংকটে আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা

কালের সমাজ ডেস্ক | মার্চ ১১, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম সুন্দরগঞ্জে হিমাগার সংকটে আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা

উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ না করতে পাড়ায় পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আলু। চলতি মৌসুমে চরের জমিতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজার দর ভাল হলেও বর্তমানে আলু বিক্রি করে খরচ উঠছে না দাবি আলু চাষিদের।

দহবন্দ ইউনিয়নের আলু চাষি সুমন মিয়া বলেন, হালচাষ থেকে শুরু করে আলু তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ ৩৫ হতে ৪০ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে বিঘাতে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কেজি আলু হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬ হতে ৮ টাকা দরে। এতে করে বিঘাতে লোকসান হচ্ছে। হিমাগারে রাখলে হয়তো বাজার ভাল হলে লাভ হবে। তা না হলে লোকসান গুনতে হবে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পনেরটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১ হাজার ১০১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যার বেশির ভাগ চাষ হয়েছে তিস্তার চরে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। চলতি মৌসুমে তিস্তার চরে আলুর ভাল ফলন হয়েছে।

চাষিদের নিকট হতে বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি আলু ৬ টাকা দরে কেনা হচ্ছে বলেন আলু ব্যবসায়ী প্রদীপ রায়। তিনি বলেন চরের চাষিদের নিকট হতে আলু কিনে তা ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে এসে উপজেলায় মজুত করা হয়েছে। উপজেলার বামনডাঙ্গায় শুধুমাত্র একটি হিমাগার রয়েছে।

সে কারণে উপজেলার বাইরের হিমাগারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হিমাগারে বস্তা রাখার ভাড়া চুড়ান্ত হয়নি। গত বছর ৬৫ কেজির বস্তার জন্য দিতে হয়েছে ৪০০ টাকা। চলতি মৌসুমে হয় তো আরও বেশি দিতে হবে।

বেলকার চরের আরেক আলু চাষি আকবর আলী বলেন বাড়িতে আলু রাখার জায়গা না থাকায় কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৪০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ হতে ৩০০ টাকা দরে। সেই আলু খোলা বা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা কেজি দরে।

সুন্দরগঞ্জ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানের চরের আলুর ব্যাপক আমদানি হয়েছে। হিমাগারের আলু রাখার খরচ বেশি, সে কারণে অনেক চাষি আলু বিক্রি করে দিচ্ছে। যার কারণে বর্তমানে আলুর বাজার অনেক কম। তা না হলে আলুর দাম অনেক বেড়ে যেত। প্রতি কেজি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।

মজুদ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, উপজেলায় একটি মাত্র হিমাগার। যার কারনে উপজেলার বাইরের হিমাগারে আলু রাখতে হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রতিবস্তা আলু রাখার জন্য হিমাগরে খরচ দিতে হচ্ছে  ৪৮০ টাকা এবং প্রতিবস্তা আলুর পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা। খেত হতে হিমাগার পর্যন্ত প্রতিবস্তা আলুতে খরচ হচ্ছে সর্বমোট ১৬০০ হতে ১৭০০ টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি হওয়ায় চলতি মৌসুমে অনেকে আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এবারে তিস্তার চরাঞ্চলে ব্যাপক আলুর চাষাবাদ হয়েছে। সেই সাথে ফলনও ভাল হয়েছে। আলু হিমাগারে রাখলে আলু চাষিরা ভাল লাভবান হবেন।

বিষয়: গাইবান্ধা হিমাগার সুন্দরগঞ্জ আলু

Link copied!