ঢাকা বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

যুদ্ধের শুরুতে আহত মোজতবা, যা জানা যাচ্ছে

কালের সমাজ ডেস্ক | মার্চ ১১, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম যুদ্ধের শুরুতে আহত মোজতবা, যা জানা যাচ্ছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার তিনদিন পার হলেও মোজতবা খামেনিকে কোনো ভিডিও বা জনসম্মুখে দেখা যায়নি। এমনকি তার পক্ষ থেকে লিখিত কোনো বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়নি। ইরানি গণমাধ্যম তার আহত হওয়ার খবর উল্লেখ করলেও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

দেশটির তিনজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, এর পেছনে প্রথম কারণ হলো অবস্থান শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা। আরেকটি কারণ হলো- ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আহত হয়েছিলেন।

ইরানি ওই তিন কর্মকর্তা বলেন, গত দুই দিনে সরকারের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে থেকে তারা শুনেছেন, মোজতবা আহত হয়েছেন। তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তিনি সচেতন অবস্থায় আছেন। সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অত্যন্ত নিরাপদ একটি স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ানের টেলিগ্রাম বার্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মোজতবা আহত হলেও নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। টেলিগ্রাম বার্তায় ইউসুফ লিখেন, ‘আমি শুনেছিলাম মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। পরে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা জানিয়েছেন, তিনি (মোজতবা) নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

এদিকে ইসরায়েলের দুই সামরিক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী মোজতবা ২৮ ফেব্রুয়ারি পায়ে আঘাত পান। তবে তিনি কতটা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। ওইদিন তেহরানের একটি ভবনে যৌথ শক্তির হামলায় আলি খামেনি ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজন নিহত হন। 
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা আইআরএনএ- এর একটি প্রতিবেদনে। সেখানে তাঁকে ‘যুদ্ধে আহত এক অভিজ্ঞ যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রভাবশালী সরকারি দাতব্য সংস্থা কোমিতেহ এমদাদ এক বিবৃতিতে মোজতবাকে ‘জানবাজ জাং’ বলে উল্লেখ করেছে। ফারসি ভাষায় যুদ্ধে আহত অভিজ্ঞ যোদ্ধাকে বোঝাতে এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার হয়।

গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। নতুন নেতা দায়িত্বগ্রহণ করেছেন কি না সে সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। বাঘাই প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেছিলেন, যাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কথা, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে গেছে।

এর আগে গত শুক্রবার সম্ভাব্য নেতা হিসেবে মোজতবার নাম সামনে আসার পর ইসরায়েল তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও বাসভবনের অবশিষ্ট অংশে নতুন করে হামলা চালায়। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, হামলায় ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, তাদের ধারণা ওই হামলার লক্ষ্য ছিলেন মোজতবা। কিন্তু হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

মোজতবার নাম ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এ সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট নন।’ যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে হত্যার চেষ্টা করবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প কিছু বলেননি। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুমকি দিয়েছিলেন, আলি খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

ইরানে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা না গেলেও রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ছবি সম্বলিত ব্যানার টানানো হয়েছে। বড় একটি দেয়ালচিত্রে দেখা গেছে- মোজতবার হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা তুলে দিচ্ছেন আলি খামেনি।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!