ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজধানীর অপরাধ জগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশের মৃত্যু, নেপথ্যে কী?

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ২০, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম রাজধানীর অপরাধ জগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী  কাইল্লা পলাশের মৃত্যু, নেপথ্যে কী?
শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ

রাজধানীর ঢাকার অপরাধের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫০)  শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা নাগাদ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ঢাকার অপরাধজগতের একটি আলোচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও তার ওপর হামলার নেপথ্যের রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজানকে গুলি করে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। মিজান হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদন্ড হলেও উচ্চ আদালত সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কাইল্লা পলাশ ২৫ বছর কারাভোগের পর ২০২৬ সালের মে মাসে মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তির ৩৮ দিন পর ১২ জুন রামপুরার টিভি সেন্টার সংলগ্ন নিজ বাসার কাছে জুমার নামাজের পর রয়্যাল সুইট মিটের সামনে কাইল্যা মাসুদ নামের আরেক সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন এবং টানা এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান। পলাশের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আড়াই দশকের অপরাধ জগতের পর্দা নামে।  

২০০০ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে মতিঝিল ও রামপুরা এলাকায় বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। দীর্ঘকাল কারাগারে বন্দি থাকলেও, কারাগারে তাঁর রাজসিক জীবন ও বাইরে অবাধ যাতায়াত নিয়ে পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির মধ্যে একটি পলাশের মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা  হয়েছিলো।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে পলাশ মারা যান।

সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেও তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রিজন ভ্যানের বদলে ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং পরিবারের সাথে সময় কাটাতেন। এমনকি গোপনে কারাগারের বাইরে হাসপাতালে প্রিজন কেবিনে থেকে বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী ও মালিবাগ এলাকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন।  

পুলিশ বলছে, হামলার পেছনে পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কালের সমাজ/এএইচবি 
 

Link copied!