ঢাকা শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

ইরানের গ্যাসক্ষেত্র ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

কালের সমাজ ডেস্ক | মার্চ ১৯, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম ইরানের গ্যাসক্ষেত্র ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান আবার কাতারে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বড় গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড ‘ভয়াবহ শক্তি দিয়ে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেবে।’ 

বুধবার রাতে ইসরাইল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারের শিল্পাঞ্চল রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলা চালায়। এই এলাকায় বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র অবস্থিত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের ওই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না। তিনি লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরাইল ‘হঠাৎ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া’ দেখিয়েছে।

ট্র্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কিছুই জানত না এবং কাতার কোনোভাবেই এতে জড়িত ছিল না বা আগাম কোনো ধারণাও পায়নি। তার মতে, কাতারের রাস লাফানে ইরানের পাল্টা হামলা ‘অযৌক্তিক ও অন্যায্য’। ট্রাম্প বড় অক্ষরে লিখে সতর্ক করেন যে ইসরাইল আর সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না, যদি না ইরান আবার কোনো ‘নির্দোষ দেশ’, যেমন কাতারের ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও হুমকি দেন, যদি ইরান আবার কাতারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে পুরো সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ধ্বংস করবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি। তবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন মাত্রার সহিংসতা অনুমোদন করতে চান না, কারণ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে। কিন্তু যদি কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হয়, তাহলে তিনি তা করতে দ্বিধা করবেন না বলেও সতর্ক করেন।

ওদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে লাগা সব আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনাস্থল ঠাণ্ডা ও নিরাপদ করার কাজ চলছে এবং বিপজ্জনক উপাদানগুলো একটি বিশেষজ্ঞ ইউনিট দিয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানি রকেট হামলায় রাস লাফান স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি ছিল ইসরাইলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিশোধমূলক আঘাত।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!