শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে করা সিটি স্ক্যান রিপোর্টে মির্জা আব্বাসের অবস্থার অবনতি ধরা পড়লে জরুরি ভিত্তিতে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। সবকিছু বিবেচনা করে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে মত দেন এবং পরিবারের সম্মতি নিয়েই তা শুরু করা হয়।
তিনি আরও জানান, মেডিকেল বোর্ডে দেশের কয়েকজন খ্যাতনামা নিউরো বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ ও অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরাও আছেন।
এর আগে জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সে সময় চিকিৎসকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার ও দলীয় নেতারা।
বিষয়: অস্ত্রোপচার মির্জা আব্বাস
আঁওড়া গ্রামের কৃষক লাবু মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। কয়েকদিন আগে আলু তুলে জমিতেই শুকানোর জন্য রেখে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেসব আলু বস্তাবন্দি করে হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালবেলার হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব আলু ডুবে গেছে। এখন পানি সরালেও এসব আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, এত পরিশ্রম করে চাষ করা ফসল এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকের কিছু করার থাকে না।
হাতিয়র গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা জানান, কিস্তির টাকা তুলে তিনি আলু চাষ করেছিলেন। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কিছুদিন অপেক্ষা করে আলু হিমাগারে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব আলু তলিয়ে গেছে। এখন কিস্তির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর আবারও আলুর আবাদ করেন। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রাখার জন্য মাঠে রেখে দিয়েছিলেন। রোজার মধ্যে দুই-এক দিনের মধ্যেই আলু তুলে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় এখন আলু তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মেজবাহুল ইসলাম বলেন, জন্মের পর এই মাঠে কখনো বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যেতে দেখেননি। তার মতে, রাস্তার পাশে পানি পারাপারের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বামুন গ্রামের কৃষক আইয়ুব প্রামাণিক জানান, দুই-এক দিনের মধ্যেই আলু তুলে বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় এখন আলু উত্তোলন করা যাচ্ছে না। পানি না শুকালে আলু তোলা সম্ভব হবে না এবং ততদিনে আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তেলিহার গ্রামের আলুচাষি সামছুদ্দিন এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে স্ট্রিক জাতের আলু চাষ করেছেন। তিনি জানান, ফলন ভালো হওয়ায় কয়েকদিন দেরি করে আলু তুললে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে ভেবে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ভেজা আলুর বাজারদর কম পাওয়া যায় এবং এসব আলু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করাও সম্ভব হয় না।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, উপজেলার কিছু মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয় বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুত পানি না নামলে আলুসহ অন্যান্য ফসলও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কৃষকদের দ্রুত পানি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছ

