ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রশ্ন সর্বমিত্রের

শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করার কী দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করার কী দরকার

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের কারণে সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা আড়ালে বা গোপনে পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না থাকলেও শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করা কেন দরকার—এমন প্রশ্ন ‍তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তাদের প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টা ১৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের ‘‘গুপ্ত রাজনীতি’’ করার দরকার কি? এখন তো আওয়ামী লীগ সরকারে নেই? তাদের প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসা উচিত....। গুপ্ত রাজনীতি ছেড়ে শিবির সম্পূর্ণ প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসুক , আমার ব্যক্তিগত চাওয়া।’

তবে, এখানে একটা কিন্তু আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজে ‘‘শিবিরের কর্মী’’ নিঃশর্তভাবে হত্যাযোগ্য প্রাণ। শিবিরকে মেরে ফেলা জায়েজ, গত সতেরো বছরে সমাজ ও রাষ্ট্রে এটা প্রতিষ্ঠিত বাক্য। যদিও রাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা নেই তাদের উপর।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক এক সভাপতির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডাকসুর এ সদস্য লিখেন, ‘আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি একটা বক্তব্য দিয়েছেন, ‘‘হয় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব’’। কথাটা খুবই স্বাভাবিক, কারণ আইন হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করতে চেয়েছে শিবিরকে।’

একই বক্তব্য যদি অন্য কোনো সংগঠনকে উদ্দেশ্য করে হতো বিরাট নিন্দার ঝড় বইতো বলে মনে করেন সর্বমিত্র। তিনি লিখেছেন, ‘শিবির নিজেও হয়তো এটা মেনে নিয়েছে, তারা নিজেরাও বিশ্বাস করে তারা একেকজন হত্যাযোগ্য প্রাণ, মানবাধিকার তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তা নাহলে সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের নেতা-কর্মীদের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ দেখতাম।’

ডাকসুর এ সদস্য আরও লিখেন, ‘বিষপাণে একপাল কুকুরছানা মেরে ফেললে বিষাদ আর অগ্নির ঝড় বয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়, একটা জলজ্যান্ত মানুষ ‘‘শিবিরের ছানা’’ মরলে সমাজের সিভিল সোসাইটি, মানবাধিকার নিয়ে হাঁসফাস করা মানুষগুলো টু শব্দটি পর্যন্ত করবে না।’

‘শিবির প্রকাশ্যে আসুক খুব করে চাই’- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লিখেন, ‘তার আগে সমাজ তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করুক। তাদের ‘‘হত্যাযোগ্য প্রাণ’’ থেকে মুক্তি দিক।’

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!