ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

পিরোজপুরে সূর্যমুখীর সোনালি সম্ভাবনা

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর | এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম পিরোজপুরে সূর্যমুখীর সোনালি সম্ভাবনা

দিগন্তজোড়া হলুদ রঙের সমারোহে নতুন এক সম্ভাবনার গল্প লিখছে পিরোজপুরের গ্রামাঞ্চল। পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের কৈবর্ত্যখালী এবং শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের কুমিরচিড়া গ্রাম এখন সূর্যমুখী ফুলের সোনালি আভায় উজ্জ্বল। একসময় ধানসহ প্রচলিত ফসলের চাষে সীমাবদ্ধ থাকা এসব এলাকায় এখন সূর্যমুখী চাষ এনে দিচ্ছে বৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক আশার আলো।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সূর্যমুখী শুধু দৃষ্টিনন্দন ফসলই নয়, এটি একটি লাভজনক বিকল্প কৃষিপণ্য হিসেবেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। কৃষক দিপংকর মজুমদার ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ইতোমধ্যে আশাবাদী হয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে চাষ করলেও সরকারি সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ায় খরচ কিছুটা কমেছে।

তবে সম্ভাবনার এ পথচলায় বাধাও কম নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে সূর্যমুখী বীজ থেকে তেল উৎপাদনের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব। তেল ভাঙানোর সুবিধা সীমিত থাকায় উৎপাদিত বীজের পূর্ণ মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। এ কারণে অনেকেই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এখনো এই চাষে এগিয়ে আসতে দ্বিধা করছেন।

এদিকে বিকেলের পর থেকেই সূর্যমুখী ক্ষেতগুলো পরিণত হচ্ছে দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে অনেকেই উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য, তুলছেন ছবি। স্থানীয়দের মতে, এসব ক্ষেত ইতোমধ্যে একটি সম্ভাবনাময় গ্রামীণ পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
কৃষক দিপংকর মজুমদার বলেন, “সূর্যমুখী তেলের বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে, তাই এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল।”

অন্যদিকে কৃষক মহসিন খান জানান, সঠিক পরিচর্যা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এ চাষ থেকে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।
স্থানীয়রা মনে করেন, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা ও কৃষি কার্ড প্রদান করা হলে সূর্যমুখী চাষ দ্রুত বিস্তৃত হবে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার . শওকত হোসেন বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সূর্যমুখী তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কম ক্ষতিকর চর্বি থাকায় এটি ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে এবং সূর্যমুখী তেল উৎপাদন বাড়াতে যন্ত্রপাতি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সূর্যমুখীর সোনালি হাসিতে পিরোজপুরের গ্রামগুলোতে তৈরি হচ্ছে সৌন্দর্য, সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!