নীলফামারীর সৈয়দপুর জ্বালানি তেল কালোবাজারির ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার রাতে (১৭ এপ্রিল) পাচারের সময় জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার লিটার পেট্রল-অকটেন।
এটি ঘটেছে কামারপুকুর ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের ধলাগাছ গ্রামের সুখীপাড়া এলাকার মেসার্স রোকেয়া এলএনজি ফিলিং স্টেশনে। উদ্ধারকৃত এসব জ্বালানির বাজার মূল্য কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা।
ঘটনায় জড়িত মূল হোতা আব্দুর রহমান পলাতক রয়েছে। তবে ৮ জন সহযোগীকে আটক করা হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত রায় দেয় জেল অথবা নগদ অর্থদন্ড। ফলে দন্ডিতরা নগদ অর্থ জরিমানা দিয়ে ছাড়া পায়। এই অর্থের পরিমাণ দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা।
দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে হোতা আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৫) জ্বালানি পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দেয়ায় তার জরিমানা করা হয় নগদ দুই লাখ টাকা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড। অন্য সাতজনের মধ্যে দন্ডিত ছয়জন হলো যথাক্রমে সেরাজ (২৫), মোঃ সাগর (৩৫), মঈন উদ্দিন (৪৫), জাহাঙ্গীর (৩৫), আলসিস শেখ (২৪) ও মেরাজ (২৮)। এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা অনাদায়ে তিন দিনের কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এসব ব্যক্তিরা দোষ স্বীকার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থ প্রদান করে ছাড়া পান।
এদিকে মোঃ হাবিব নামে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে দোষ স্বীকার করলেও তাকে দন্ড না দিয়ে সতর্ক করা হয়।
সৈয়দপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন জানান, জ্বালানি পাচার করা হচ্ছে এমন খবর তিনি শুক্রবার রাতে পেয়ে শহর বাইপাস সড়কের পাশে অবস্থিত আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন মেসার্স রোকেয়া এলএনজি ফিলিং স্টেশনে আসেন। সেখানে চোরাচালানের কোনো আলামত পাননি। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের পাশে বিশাল একটি প্রাচীর ঘেরা জায়গা তালাবদ্ধ দেখে তার সন্দেহ হয়। এসময় তিনি সঙ্গীয় সৈয়দপুর থানা পুলিশের সদস্যদের নিয়ে ওই ঘেরা জায়গার ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান পাঁচটি তেলবাহী ট্রাংকলড়ি, একটি তেলবাহী কাভার্ড ভ্যান ও একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। ৮/১০ জন মানুষ ট্যাংকলড়ি থেকে তেল খালাস করছে প্লাস্টিকের ড্রাম ও বড় বড় প্লাস্টিকের জারে। এমন অবস্থায় হাতেনাতে চোরাকারবারিদের পাকড়াও করা হয়। তবে ঘটনার হোতা আব্দুর রহমান প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সটকে পড়ে।
অভিযান চলাকালে অভিযানের জালে আট সহযোগী আটক হয়। জড়িত থাকার দায়ে এদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শাস্তিও দেয়া হয়। জব্দ করা হয় ৫টি ট্যাংকলড়িতে থাকা প্রায় ৪০ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন। পরে জব্দকৃত জ্বালানি সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালের সুমনা ফিলিং স্টেশনে খালাস করে বিক্রি করা হয়। সরকারি মূল্যে বিক্রিত জ্বালানির অর্থ জমা করা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
তবে একাধিক বিশিষ্টজন ও জ্বালানি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সৈয়দপুর এখন জ্বালানি পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে ট্যাংকলড়ি ভর্তি জ্বালানি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যায়। এসময় পার্বতীপুর জ্বালানি ডিপো থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলাগামী ট্যাংকলড়ির কিছু গাড়ী সৈয়দপুর শহরের বাইপাস সড়কের ওই ফিলিং স্টেশনের পাশে দেয়াল ঘেরা জায়গায় বিশ্রাম করার নামে ট্যাংকলড়ি থামিয়ে প্রায় অর্ধেক জ্বালানি গোপনে খালাস করে। পরে তা তেলবাহী কাভার্ডভ্যান এবং প্লাস্টিকের জার ভর্তি জ্বালানি মাইক্রোবাসযোগে গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন চোরাই মার্কেটে ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হয়।
বিশিষ্টজনদের এমন হিসাবে তেল সংকটকালীন সময় থেকে হোতা আব্দুর রহমান এমন অপকর্ম করে কয়েক কোটি টাকা অবৈধ আয় করেছেন বলে ওইসব ব্যক্তিদের মন্তব্যে জানা গেছে।
কালের সমাজ/এসআর

