শেরপুরের নালিতাবাড়ীর এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুয়া বিয়ে, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত মো.আরিফ হোসেন আলতাফ (৩৭) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি জামালপুর জেলার বাসিন্দা মোঃ আরিফ হোসেন আলতাফ। তাকে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা মহানগরীর তুরাগ থানার এলাকা থেকে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর এবং র্যাব-০১, সিপিসি-২, উত্তরা ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।
ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য ও এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, ঢাকায় চাকরির সুবাদে ধৃত আসামির সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আসামি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে তার ৪/৫ জন বন্ধুর সহায়তায় ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে বিয়ের নাটক সাজায়।
বিয়ের বিশ্বাস জন্মিয়ে ধৃত আসামি ভুক্তভোগীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে আসামির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করে ভুক্তভোগী কাবিননামা দেখতে চাইলে আসামি টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে কোনো বৈধ বিয়ে হয়নি বলে জানিয়ে ভুক্তভোগীকে কৌশলে তার বাবার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে আদালতে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা নং-২১, তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালায়। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
কােলর সমাজ/কে.পি

