আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো চাপে নয়, বরং ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং তেল পাচার রোধেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিআইডব্লিউটিএ-র বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আইএমএফের কোনো চাপের বিষয় এখানে নেই। সরকার প্রতিনিয়ত জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরুপায় হয়েই আমাদের এই দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথাই ভাবি। আমার বিশ্বাস, দেশের মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই বৃদ্ধি কেবল ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্যাসের দাম যেহেতু বাড়েনি, তাই গ্যাসচালিত বাসের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো পরিবহণ নিয়ম লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে তেলের দাম কমলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস ভাড়া কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বিআরটিএ।
রাজধানীর যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশা চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। ঢাকাকে যানজটমুক্ত রাখতে আমরা পর্যায়ক্রমে প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে।
উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতার জেরে গত ১৮ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে সরকার। এর ফলে গত বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে আন্তঃজেলা ও মহানগর রুটে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা হারে বৃদ্ধি পায়।
কালের সমাজ/এসআর

