ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

“কৃষি ও কৃষকের মান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ সময়োচিত”

কালের সমাজ ডেস্ক | এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম “কৃষি ও কৃষকের মান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ সময়োচিত”

সময়ের ধারাবাহিকতায় পেরিয়ে অনেক দিন। ১৯৭১, ১৯৭৭—স্বাধীনতা ও উন্নয়ন জাগরণের স্মরণীয় মুহূর্ত, যার পুনরায় প্রতিফলন ২০২৪।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি ও কৃষক নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যা আজও বাংলাদেশের প্রতিটি সংসারে খাবারের চাহিদা পূরণ করছে। কিন্তু বাস্তবে কি কৃষি ও কৃষকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে বা কোনো আধুনিক সুবিধা ও বাস্তবমুখী সমাধান হচ্ছে? হয়তো প্রতিদিনের সংস্থান হচ্ছে, যা চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন হচ্ছে, কিন্তু অতিরিক্ত ও রপ্তানিমুখী পণ্যের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে সরকারের নির্বাচন-পূর্ববর্তী অঙ্গীকার “কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা”—এক বাস্তবমুখী নীতি ও কার্যপ্রণালী গ্রহণ করা হয়েছে, যা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হালে কৃষি ঋণ মওকুফ, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ প্রদান, খাল খনন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিতরণ নীতি—এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আমি বিশ্বাস করি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রয়াত পিতার স্মৃতি ও উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যার সুফল দেশ ও জাতি গঠনে অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ুর ভারসাম্য এবং খরা মোকাবেলায় খাল খনন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আবাদি জমি যত বড়ই হোক না কেন, সেচব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে খাল খননের প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বিরাট ভূমিকা পালন করবে, যা উৎপাদন, কৃষকের ধারাবাহিক রোজগার ও কর্মসংস্থান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

যদিও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আজ প্রয়োজন, কিন্তু প্রাকৃতিক এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কৃষককে সাবলম্বী করবে ও নির্ভরতামুক্ত করবে। এই ধারাবাহিক কর্মসূচির পাশাপাশি সময়মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যা কৃষি ও কৃষকের জন্য সম্পূরক ভূমিকা পালন করবে। সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে, কৃষক ও কৃষি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি, যা নিশ্চিত করবে জনগণের নিত্যদিনের চাহিদা ও প্রশান্তি।

তাই এই উন্নয়নকে সার্থক করতে প্রয়োজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক সহযোগিতা ও নীতি, যা সরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করবে নিজ উদ্যোগে ঋণ প্রদানে; যা সুদের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এনজিওভিত্তিক উচ্চমাত্রার ঋণ প্রদান হ্রাস করবে, কৃষকের ভীতি দূর করবে ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আজ বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বিরাজ করছে; এই সন্ধিক্ষণে কৃষি ও খাদ্যের স্বাবলম্বিতা ও রপ্তানি এক সার্থক দিগন্তের সূচনা করবে। জীবনের নীতি অনুযায়ী একদিনে জাতি ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দেশের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করবে, যার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে আগত দিনগুলোতে সরকারের সকল কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। পরিবর্তন প্রয়োজন, কিন্তু কার্যক্রম বন্ধ ও রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, যা ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করেছে।

উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বপ্নকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এবং সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল হোক—এটাই প্রত্যাশা।

“সবার উপরে বাংলাদেশ”—এই মন্ত্র দিয়েই শুরু হোক শুভ যাত্রা ও দেশ গড়ার প্রত্যয়।

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

 

 

Link copied!