ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

“আপোষহীন এক স্বপ্নদ্রষ্টার পক্ষে সমগ্র দেশ”

তারিক আফজাল | জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ১১:০০ পিএম “আপোষহীন এক স্বপ্নদ্রষ্টার পক্ষে সমগ্র দেশ”

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আর নবজাগরণের চেতনার সমন্বয়—এই দুয়ের পরিক্রমায় দেশ যখন এক সন্দিক্ষণ অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২৫ যেন এক প্রশান্তির সংবাদ পরিবেশনে আবির্ভূত হলো। এক স্বপ্নদ্রষ্টার আগমন, যার প্রতীক্ষায় প্রতিটি রজনীর ক্ষণগণনা এক অজানা আতঙ্কে বিভোর হয়েছিল।


অনেক অপেক্ষায় অধীর এক বিশাল সমাগম আবার এক নতুন ইতিহাস লিখল— “তুমি আসবে বলে আজ সকালে শীতের শিশির বইল, মেঘে ঢাকা আকাশ যেন এক অপরূপ সেজে গাইল আর বাতাসের পরশ ছুঁয়ে দিল একমন জীবনের গান”।

 

তোমার দিকে তাকিয়ে জানলাম আগামী দিনের শান্তি আর পেলাম হারিয়ে যাওয়া প্রাণ।

 

অপার সম্ভাবনার এই দেশ, আগামীর পথচলা শুরু থেকেই হয়ে উঠুক পরাক্রমপূর্ণ—এই কামনা করি। সামগ্রিক অর্থনীতির বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মেধার সঠিক প্রয়োগ ও নিয়োগ, আইনের সঠিক প্রয়োগ, বিচারপ্রথার স্বাধীনতা, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ, সামাজিক শৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও জনজীবনের শান্তি আনয়ন যেন আজ সময়ের দাবি।

 

রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আজ নিয়ত সংঘাত অপসারণ করবে, দেশপ্রেমিকের জীবনকে সংরক্ষণ করবে আর দেশের আন্তর্জাতিক মান সমৃদ্ধ করতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে।

 

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, প্রযুক্তির প্রয়োগ, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন নীতিমালার সংযোজন, মানবসম্পদ রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাপন, মন্দ ঋণ হ্রাসে নীতিমালার পরিবর্তন—দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা, প্রযুক্তিখাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ, সহজ ও বিকল্প রপ্তানি সম্পদের প্রসার, বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানবসম্পদ রপ্তানি বৃদ্ধি করবে। সমৃদ্ধ হবে রেমিট্যান্স, বাড়বে রিজার্ভ ও কমবে আন্তর্জাতিক ঋণ—সংকুচিত হবে “ব্যালান্স অফ পেমেন্ট”।

 

কৃষিনির্ভর আমাদের অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক রিফাইন্যান্স নীতির প্রয়োগে কৃষক পাবে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ। যা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণের পর বৃদ্ধি পাবে রপ্তানি, তৈরি হবে পোশাকশিল্প রপ্তানির এক বিকল্প গতিধারা। ভাঙবে সিন্ডিকেট আর কাটবে জনজীবনের মূল্যস্ফীতির সংঘাত।

 

বাংলাদেশ আজ উন্নতির পথে এগিয়ে গেছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করে শপথ করবে তুমি সকলের কাছে। এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে এলে দীর্ঘ ১৭ বছর পর, তোমারই আলোর প্রতিমা যেন আজ জগৎছোঁয়া।

 

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন আর মুক্তির গান গেয়ে যারা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে আত্মাহুতি দিয়ে গেছেন, তাঁদেরই স্বপ্নের দেশ আজ তোমার মহিমাতে অর্পণ করিলাম।

 

বিশ্বাস আমার, সব বাধা পেরিয়ে সার্থক হবে তোমার প্রাণ আর মর্মে বাজবে— “প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ; জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ।”

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

Side banner
Link copied!