ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’

তারিক আফজাল | ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:১১ পিএম ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’

স্বাধীনতা ১৯৭১, উন্নয়নের জাগরণ ১৯৭৭ এর ধারাবাহিকতায় দেশ প্রান্তিক হতে সমগ্র পর্যায়ে যখন অগ্রসর ঠিক তখন এক নৃশংসতার শিকার এক বিরল প্রাণ- প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেইদিন প্রয়াত হয়েছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন আর উন্নয়নের গতিধারা। কালের আবর্তনে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি, কৃষি, মানব সম্পদ রপ্তানি, শান্তি রক্ষা ও বিবিধ বিষয়ে আকর্ষিত হলেও ধারাবাহিক গতিধারা বিবিধ কারণে বাধাগ্রস্থ হয়েছে।

রাজনীতির পট পরিবর্তন, বিরোধ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস, জাতির জীবনকে করেছে বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। বৈদেশিক বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ও অর্থনীতির খাতকে শক্ত ও নির্দিষ্ট করা আজ একান্ত প্রয়োজন। বিনিদ্র রজনীর অবসান আজ সময়ের দাবি। দেশপ্রেমিকের অকাল মৃত্যু আজ এক অভিশাপ। এই পাপ ও বেদনার মুক্তি আজ জাতির ও তার পরিবারের কামনা। বিচার ও বিশ্বাস আজ একমাত্র অভিপ্রায়।

এই ক্রান্তিকালে এক সাহসি নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ১৭ বছর আপোষহীন একপ্রাণ সে প্রতিমুহূর্তে গেয়েছেন দেশের গান, স্বপ্নের প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ ও দেকেছেন হারানো পিতার অপূর্ণ উন্নয়নের বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ। তারই প্রকৃত রূপ দেখার অপেক্ষা আজ।

তার দীর্ঘ এই অপেক্ষার নেতৃত্বে, দেশের অগ্রযাত্রায়, পোশাক শিল্পের বহুমুখীকরণ ও আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ এবং এক নিজস্ব মন্ত্রণালয় যা দেশের রপ্তানি মুখী এই শিল্পকে এক নতুন সম্ভাবনার পথে অগ্রগামী করবে।

অপার সম্ভাবনার এই দেশ, কৃষি ও মানুষের এই দেশ। কৃষির আধুনিকীকরণ ও দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। কৃষিকে রপ্তানীমুখী করতে হবে যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তার নেতৃত্বে, অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতি ভিত্তিক কলকারখানার উন্নয়ন ও শিল্পখাতের বৈদেশিক যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস কল্পে কাজ করতে হবে।

আইটি প্রযুক্তি আজ এক অমূল্য সম্পদ। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সফল নেতৃত্ব, নীতির পরিবর্তনে ও করের নীতি নির্ধারণে বিদেশি বিনিয়োগ প্রযুক্তির উন্নয়নের এক চলমান ভূমিকা রাখতে পারে। যা বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতিতে পর্যটন বরাবরই এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। কিন্তু এর ধারাবাহিক উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, এক দেশপ্রেমিকের নতুন নেতৃত্ব, পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক অপরিসীম ভূমিকা পালন করবে। কক্সবাজার, সুন্দরবন ও পাহাড়ি এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সেৌন্দর্যবর্ধন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হবে।

অতীত ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে বহুল অপেক্ষার এই নেতৃত্ব অবদান রাখবেন বলে আশারাখি। প্রশাসনের বিকেন্দ্রিকরণ, যানজট নিরসন ও আধুনিক যোগাযোগ সময়ের বিশেষ প্রয়োজন।

জলবায়ুর ভারসাম্য, শোধনাগার ও বিবিধ কার্যকলাপ আজ অবহেলার শিকার হচ্ছে। ১৯৭৭ সাল মনে করিয়ে দেয় এক প্রাণের অক্লান্ত দেশপ্রেম। খাল খনন কর্মসূচি ও প্রান্তিক জনমানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন। বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সেই পরশের একান্ত প্রয়োজন।

১৭ বছরের স্বপ্ন দেখার অবসান, দেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন, জনতার কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা; এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তুমি আসবে জীবনের গান গেয়ে “ প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ”


লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

Side banner
Link copied!