ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

“স্মরণে - বলিষ্ঠ এক দেশপ্রেমিকের সেই অঙ্গীকার”

তারিক আফজাল | জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম “স্মরণে - বলিষ্ঠ এক দেশপ্রেমিকের সেই অঙ্গীকার”

“আমাদের সরকার, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করবে” — ১৯৭৭ সালে এক যুগান্তকারী ভাষণের উক্তি। প্রয়াত সেই যোদ্ধার মরণজয়ী ধারায় জেগে উঠেছিল বাংলাদেশ।

 

প্রশান্তি আর উন্নয়নের দিগন্ত যেন উঁকি দিচ্ছিল বাংলার আকাশে। একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি ও দেশপ্রেমিক—এই বিরল প্রতিভার মিশ্রণ বাংলার ইতিহাসে বিরল। অভাগা জাতি ১৯৮১ সালে হারালো সেই ভালোবাসার রাজপুরুষকে, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য বিদ্রোহ ও স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। সময়ের আবর্তনে, রাজনীতির বিরোধে, ইতিহাস পরিবর্তনে ও সকল দেশপ্রেমিকের ত্যাগের মহিমাকে নির্লজ্জভাবে অস্বীকার করে আজ এক বিভ্রান্তির পথে দেশ। হারিয়ে গেছে সকল মর্যাদা আর শক্তির অতীত। খুব কাছ থেকে দেখা সেই মানুষটিকে আজ স্মরণ করি—প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান—বীর উত্তম।

 

১৯৭৭ উত্তর বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকারের উক্তি— “আমরা সকলকে একত্রিত হতে হবে, একমাত্র ঐক্যেই রয়েছে শক্তি।”

 

বিরল সেই প্রাণের ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা, পারিবারিক নিয়মনীতি, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ—সকল কিছুই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আজ অনুপস্থিত। নির্লজ্জ ও নোংরা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশের শিকার সেই আলোকিত অতীত।

 

দেশের অগ্রগতিতে সুশাসনের লক্ষ্যে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে, কৃষি ও কৃষকের জীবনের মান উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক প্রয়োগ, স্বনির্ভর গ্রামাঞ্চল ও স্বাবলম্বী অর্থনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। প্রতিদিনের বাংলাদেশ এক নিয়মতন্ত্রের অধীনে অগ্রসর হচ্ছিল।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গন যেন এক নতুন বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে বিস্ময় প্রকাশ করছিল।সাধারণ জীবনযাপনের সেই পিতা প্রতিনিয়ত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজের পদচারণা অঙ্কিত করেছিল। আমার দেখা এক অসাধারণ মানুষ, যার দিনের অগ্রযাত্রা এক সাধারণ মানুষের মতো—রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সীমিত গাড়ির বহর, সীমিত খরচের নিরাপত্তা প্রমাণ করে সেই মানুষের জনপ্রিয়তার কারণ; জনগণই ছিল তার শক্তি আর ভালোবাসা।ক্ষমতার অধিকার যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের পতন হয়েছে অনিবার্য। তারা নিজেদের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে করেছেন কলুষিত।

 

আজ এই সন্ধিক্ষণে সেই হারিয়ে যাওয়া প্রাণের শিক্ষার আলোকে দেশ অগ্রসর হবে বলে আশাতে বুক বেঁধে রাখছি।

 

কৃষির উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও আধুনিকীকরণ, পোশাকশিল্প ও উল্লেখযোগ্য রপ্তানি শিল্পের জন্য নীতিবান্ধব কর, নিরাপত্তা ও পরিবেশ, বহির্বিশ্বের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি রোধে ব্যাংকিং কার্যবিধির সংস্কার, মন্দ ঋণ হ্রাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদার নীতি প্রণয়ন, জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি। ৫৪ বছরের স্বাধীনতা আজও অপূর্ণ।

 

আমি বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ও তাঁর অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

 

আগামী নেতৃত্ব তাঁদের প্রজ্ঞা ও দক্ষতার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের মানুষ আবারও সেই হারানো প্রশান্তি খুঁজে পাবে, ইনশাআল্লাহ।

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

Side banner
Link copied!