ঢাকা শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২
সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চলছে হরিলুট

সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের

বিশেষ প্রতিনিধি | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের

দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারে চলছে চরম অস্থিতিশীলতা। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে কিছুতেই লাগাম টানতে পারছে না সরকার। ভোক্তা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা হলেও তা মানছেন না খুচরা থেকে পাইকারি বিক্রেতারা। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি মূল্যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চলছে হরিলুট। যা সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শামসুল আলম অভিযোগ করেন, বিইআরসি ঘরে বসে দাম নির্ধারণ করে।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১২ কেজি এলপিজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ৫০-১০০ টাকা কম মূল্যে পাইকারি দরে বিক্রি করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে জানুয়ারি মাসে নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। তবে ওই মাসে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিক্রেতারা জানান, বাড়তি মূল্যে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। রাজধানীর উত্তরায় বিডিআর মার্কেটের এক এলপিজি বিক্রেতা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য বাজারে কার্যকর হতে কয়েকদিন সময় লাগে। কারণ আমরা যে মূল্যে গ্যাস কিনি, সেই মূল্যের হিসাবেই আমাদের বিক্রি করতে হয়। তবে এ দাবিকে অযৌক্তিক বলছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো।

জানা গেছে, ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ২১ পয়সা বাড়ানো হয়। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এরই মধ্যে এলপিজি আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এতে এখন ১২ কেজিতে দাম কমেছে ১৫ টাকা।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিইআরসি বলছে, এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১১১ টাকা ৭৯ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা। ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ সংকট চলছে। প্রতি সিলিন্ডারে এখন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

প্রসঙ্গত, দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ টন। বাজারটি পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ৫২টি। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যান্ট রয়েছে। আমদানির সক্ষমতা আছে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের। তবে গত বছর কোনো না কোনো মাসে আমদানি করেছে ১৭টি কোম্পানি। নিয়মিত আমদানি করেছে মাত্র ৮টি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত বছরের শুরুতে কয়েকটি কোম্পানি আমদানি করলেও শেষ দিকে অনেকেই আমদানি কমিয়ে দেয়। সেই ঘাটতির প্রভাব পড়ে বাজারে। হঠাৎ সংকটে পড়েন গ্রাহকেরা। কথা হয় এলপিজি পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদুর রহমান এর সঙ্গে। তিনি বলেন, শহরে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা রয়েছে। এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ঘাটতি আছে। তার দাবি, সরবরাহ বাড়লেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে বাড়তি দাম নিচ্ছেন। তবে ক্রেতারা বলছেন, সমস্যা কেবল সুযোগসন্ধানীদের নয়। অনেক দোকানে সিলিন্ডার থাকলেও চাহিদার তুলনায় কম। দরদামের সুযোগ থাকে না। ক্রেতা বেশি, পণ্য কম এই বাস্তবতায় বাড়তি দাম যেন অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারদর সমন্বয় করে সরকার নির্ধারিত মূল্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই দর কার্যকর হচ্ছে না। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি নেওয়া হলে নজরদারি কোথায় এই প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও তার প্রভাব স্থায়ী নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দোকানিরাও স্বস্তিতে নেই। একদিকে ক্রেতার চাপ, অন্যদিকে পরিবেশকের বাড়তি দও এই দুইয়ের মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। রাজধানীর ডেমরার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ক্রেতারা মনে করেন, আমরা বেশি নিচ্ছি, কিন্তু পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাঁচজন খুচরা বিক্রেতা জানান, যে পরিমাণ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে দোকানভাড়া ও শ্রমিকের খরচই কষ্টে ওঠে। মুনাফা কমেছে। তবু বাড়তি দাম রাখার দায় তাঁদের ঘাড়েই পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডগাইর বাজারের একজন পরিবেশক প্রতিষ্ঠান বলেন, আমদানি কম হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে খরচ ওঠে না বলেই অনেককে বাড়তি দাম রাখতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ১০ রোজার মধ্যেই দাম কমে আসবে।

রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসিন্দা মোকাররম হোসেন। তিন সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে সংসার। নিজে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ইদানীং তার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সংকট আর সিলিন্ডার গ্যাসের বাড়তি দাম। 

তিনি বলেন, বাসায় লাইনের গ্যাস সব সময় থাকে না। এজন্য বিকল্প উপায় হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার রাখতে হয়। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হয় তাকে। তার এই বাড়তি খরচ আরও বেড়ে গেছে এলপিজির লাগামহীন দামে। মোকাররম বলেন, প্রতি মাসে লাইনের গ্যাস বিল তো দিতে হয়। বাসায় ছোট বাচ্চা, ওদের জন্য হুটহাট খাবার রেডি করতে হয়। এখন গ্যাস তো আর সব সময় থাকে না, এজন্য বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার রেখেছি, যাতে যে কোনো সময় অন্তত খাবার রান্না করা যায়। এখন দেখছি এটাও বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সিলিন্ডার সরকারি দামে কিনতে পারি না। এই মাসেও ১৯শ টাকা দিয়ে কিনেছি। এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। তার ওপর গ্যাসের জন্য বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। মধ্যবিত্তের সংসারে আমরা এক-দুইশ টাকাও হিসাব করে খরচ করি। 

শুধু মোকাররম নন, রাজধানীতে পরিবার নিয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন এমন অনেকেই লাইনের গ্যাস না থাকা ও এলপিজির বাড়তি দামে বেশ বিড়ম্বনায় আছেন। 

বাসাবাড়িতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বেশি। এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সেই দামের তোয়াক্কা করে না কেউ। কখনো কৃত্রিম সংকট আবার কখনো অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে বাজারে সেই দামে কোথাও মিলছে না সিলিন্ডার। 

ভোক্তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি টাকা গুনেই এলপিজি কিনতে হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চাপে।

এদিকে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ভ্যাট কমিয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কিছুটা কমলেও বাজারে তার প্রতিফলন নেই। খুচরা পর্যায়ে বিক্রেতারা পরিবহন খরচ, ডিলার কমিশন ও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। টঙ্গীর এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মিঠু বলেন, সিলিন্ডার আছে, দাম ১৯শ টাকা। দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো কিনতে পারি না। ফেসবুকের দামের হিসাব কইরা লাভ নাই। অন্য জায়গায় কম দামে পাইলে সেইখান থেইক্যা ন্যান।

লালবাগের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, ১৮শ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছি। কোথাও কম দামে পাইলাম না। শুধু শুনি যে সরকার দাম কমাইছে। বাজারে কিনতে গেলে তো পাই না। ধানমন্ডির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের খরচা হয় বেশি। অনেকের বাসায় নিয়ে ডেলিভারি দিয়ে আসতে হয়। পরিবহন খরচ আছে। কেনা পড়ে বেশি টাকায়। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করব কীভাবে! এজন্য সরকারি দামে বিক্রি করতে পারি না।

ভ্যাট কমার প্রভাব নেই সিলিন্ডারের দামে: বাজার স্থিতিশীল রাখা ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি রাখতে সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর সামগ্রিক ভ্যাট কমিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। 

এতে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) পরিশোধ করতে হতো। শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি- উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজিকে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে জনস্বার্থে কর কাঠামো যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এলপিজির আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে। এই পুনর্বিন্যাসের ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর আর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে এখন কেবল আমদানি পর্যায়েই একবার কর আদায় করা হবে।

এনবিআর জানায়, এসআরও কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের কাঠামোর তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দাম কমার পরেও বাড়তি দাম দিয়ে ভোক্তাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

গত ২ মাসে এলপিজির সরকারি দামের চিত্র: ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ১২ কেজির এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। গত ২ ফেব্রুয়ারি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নতুন দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। পরে এনবিআর এলপিজির উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে মূসক আরোপের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে বিইআরসি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করে সংস্থাটি। 

তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তরকেও জানিয়েছি। সবাই কাজ করছে। 

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি এসেছে। এ মাসের আরও তো কিছুটা সময় বাকি আছে। একটু ধৈর্য ধরেন, আশা করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কথা হয় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শামসুল আলম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিইআরসি ঘরে বসে দাম নির্ধারণ করে। দাম নির্ধারণের জন্য গণশুনানি হওয়ার কথা। সেখানে ব্যবসায়ীদের থাকার কথা। কিন্তু কোনোটিই হয় না। এজন্য বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করে ব্যবসায়ীরা তা মানে না। ব্যবসায়ীরা বিইআরসির ধার্য করা দাম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা এমনকি লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে বিইআরসি সেটিও করে না।

তিনি বলেন, এজন্য ব্যবসায়ীদের বিচার বিইআরসি করবে। বিইআরসির বিচার সরকার করবে। তবে কেউ তার দায়িত্ব পালন করে না। দিনশেষে ভোক্তার পকেট কাটা হয়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক (গ্যাস) প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝামেলার কারণে আমদানি কম হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। চাহিদা ও আমদানির মধ্যে এক-দেড় লাখ টন গ্যাস ঘাটতি রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই ১২ লাখ টন গ্যাস আমদানির জন্য কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছি। 

তিনি বলেন, গত সরকরের (অন্তর্বর্তী সরকার) সময় যারা আমদানি বাড়াতে চেয়েছিল তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বৈত সমস্যা ছিল। আমরা গত মাসে নিজেরাই অনুমোদন দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বেক্সিমকো, বসুন্ধারা, এস আলম এবং ওরিয়ন এই চারটা কোম্পানি ব্যাংকের কারণে আমদানি করতে পারছে না। তাদের যে স্ট্রাকচার এবং বোতল ইমপ্ল্যান্ট আছে সেগুলো পড়ে আছে। যেখানে দেড় কোটি সিলিন্ডার পড়ে আছে সেখানে ঘাটতি হবেই।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আগের সরকার ভ্যাট ট্যাক্স কমিয়ে দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সাধারণ ক্রেতারা এখানে অসহায়। তিনি বলেন, যারা বলছে বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করছে তাদের বিচার হওয়া দরকার। কারণ তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, রমজান উপলক্ষে আমাদের তদারকি টিম বাড়ানো হয়েছে। ঢাকাতে ১৩টি টিম নিয়মিত কাজ করছে। এছাড়া জেলাগুলোতে আমাদের টিম কাজ করছে। আসলে ঢাকা একটা বিশাল এরিয়া, এত বেশি দোকানপাট, এত বেশি বাজার-যে সবগুলো এরিয়া তদারকি করা যায় না। 

তিনি বলেন, বড় পাইকারি বাজারগুলোয় এবং যেখানেই আমরা অভিযোগ পাই, সেখানেই আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা বলে তারা বেশি দামে কিনে ফলে বেশি দামে বিক্রি করে। অথচ তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কাগজ চাওয়া হলে তারা দিতে পারে না। তিনি জানান, কারসাজি মূলত ডিলার, ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতা সবাই মিলে করে। সব মিলিয়ে একটা দুষ্টচক্র আছে, তাদের কারণেই বাজারে হুট করে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

কালের সমাজ/এসআর

Side banner
Link copied!