ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

ভান্ডারিয়ার জুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

কালের সমাজ ডেস্ক | এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম ভান্ডারিয়ার জুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্থবিরতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
 

১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল আমিন তালুকদার প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালে কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই তার ছেলে শাকিল পারভেজ তালুকদারকে সিলেকশনের মাধ্যমে সভাপতি করা হয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কমিটি গঠনের প্রায় ৯ মাস পার হলেও বর্তমান সভাপতি এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যও মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি। এমনকি শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে কোনো সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশন খাতা সভাপতির ব্যক্তিগত হেফাজতে ঢাকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
 

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ক্লার্ক নিয়োগ নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানেই হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কামাল হোসেন নামে একজনকে ক্লার্ক পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি এখনো যোগদান করেননি এবং হাজিরা খাতায় তার নাম নেই। অথচ মার্চ ২০২৬ মাসের বেতন সিটে তার নামে বেতন বরাদ্দ আসছে মর্মে প্রমান পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখনো যোগদান করতে পারেননি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “উল্লিখিত বিষয়গুলো আমার সিদ্ধান্তে হয়নি, সভাপতির সিদ্ধান্তেই হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।”
 

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সভাপতি ও তার পরিবারের প্রভাবেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, “বাপ-ছেলে মিলে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সভাপতি নামমাত্র দায়িত্বে থাকলেও সবকিছু এখনো তার বাবার নির্দেশে চলছে।” ক্লার্ক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বর্তমান কমিটি বাতিল, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্লার্কের নিয়োগ বাতিল এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন

 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!